ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
সেতু আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাহিনি পড়ছিল। নতুন খিলাফতের প্রথম আমির নির্বাচিত না হওয়া সত্ত্বেও তাকেই এই বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খিলাফত লাভের পরপরই তিনি তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন । এরপর তিনি নিরস্ত্র 'X' কে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এছাড়াও তিনি পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বহু লোককে কারারুদ্ধ করেন। তার গৌরবময় 'কীর্তি হলো একটি নতুন নগর প্রতিষ্ঠা, যা ছিল তার সাম্রাজ্যের রাজধানী। তার নাম অনুসারে এই নতুন নগরীর নামকরণ করা হয় ।
- ক)(1)
বাগদাদ নগরী কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- খ)(2)
বায়তুল হিকমা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সেতুর পঠিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আব্বাসি খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে তোমার পঠিত আমির অধিক কৃতিত্বের দাবিদার - উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বায়তুল হিকমা’ (জ্ঞানগৃহ) হলো আব্বাসি খলিফা আল-মামুন কর্তৃক ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত একাডেমি, অনুবাদ কেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগার।
এটি ছিল মধ্যযুগের জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান কেন্দ্র। এখানে গ্রিক, ফারসি, সিরীয় ও ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান, দর্শন, গণিত ও চিকিৎসাবিদ্যার গ্রন্থসমূহ আরবিতে অনুবাদ এবং গবেষণার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সেতুর পঠিত ঘটনার সাথে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের সাদৃশ্য রয়েছে।
আবু জাফর আল-মনসুর ছিলেন আব্বাসি খিলাফতের দ্বিতীয় খলিফা, কিন্তু তাঁর দক্ষতা ও দৃঢ়তার কারণে তাঁকে এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খিলাফতে আসীন হয়ে তিনি তাঁর চাচা আব্দুল্লাহর বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করেন। এরপর আব্বাসি বিপ্লবের মূল নায়ক এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় সেনাপতি আবু মুসলিমকে (উদ্দীপকের 'X') নিরস্ত্র অবস্থায় কৌশলে হত্যা করেন। এছাড়া তিনি খোরাসানের বিদ্রোহ ও রাওয়ান্দিয়াদের দমন করেন এবং শিয়াদের অনেককে কারারুদ্ধ করেন। তাঁর অমর কীর্তি ছিল ৭৬২ খ্রিস্টাব্দে নতুন রাজধানী ‘মদিনাতুস সালাম’ বা বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করা।
উদ্দীপকে নতুন খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা, চাচার বিদ্রোহ দমন, নিরস্ত্র 'X' (আবু মুসলিম)-কে হত্যা এবং নতুন রাজধানী প্রতিষ্ঠার যে বিবরণ এসেছে, তা খলিফা আল-মনসুরের কার্যাবলির সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সেতুর পঠিত আমির আবু জাফর আল-মনসুরের কৃতিত্বের পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আব্বাসি খলিফা হারুনুর রশিদ বা আল-মামুনের অবদানের তুলনামূলক বিচার করলে দেখা যায়, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতির দিক থেকে হারুনুর রশিদ অধিক কৃতিত্বের দাবিদার, তবে সাম্রাজ্যের অস্তিত্বের বিচারে মনসুরের ভিত্তি ছিল অপরিহার্য।
খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর আব্বাসি বংশের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন এবং বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করে সাম্রাজ্যকে সুরক্ষিত করেন। কিন্তু আব্বাসি খিলাফত তার গৌরব, ঐশ্বর্য ও স্বর্ণযুগের শিখরে পৌঁছায় পরবর্তীতে খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে। হারুনুর রশিদ অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর কূটনৈতিক সম্পর্ক ইউরোপের শার্লেমেনের রাজদরবার থেকে চীনের সম্রাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তাঁর সময়ে বাগদাদ পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ও সভ্য নগরীতে পরিণত হয়।
আল-মনসুর খিলাফতকে টিকিয়ে রাখার জন্য রক্তপাত ও কঠোর দমননীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন, যা রাজনৈতিকভাবে সফল হলেও কিছুটা নিষ্ঠুর ছিল। বিপরীতে, পরবর্তী খলিফাগণ (হারুনুর রশিদ ও আল-মামুন) সাম্রাজ্যে সার্বিক সমৃদ্ধি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন করেন।
অতএব, সাম্রাজ্য রক্ষা ও ভিত্তিমূল রচনায় আল-মনসুর সফল হলেও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সোনালী সভ্যতার বিকাশে হারুনুর রশিদ নিঃসন্দেহে অধিকতর খ্যাতির দাবিদার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও