ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

বদশা নাসিরউদ্দিন বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হওয়া সত্ত্বেও সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। তার কোনো দাস-দাসী। ছিল না। তিনি ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে সরকারি কোষাগার থেকে কোনো অর্থ খরচ করতেন না। কুরআন শরিফ নকল ও টুপি সেলাই। করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন। প্রশাসনিক কাজের চেয়ে তিনি ধর্মীয় কার্যাবলিকে অধিক গুরুত্ব দিতেন।

  1. ক)

    উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী কোথায় ছিল?

    (1)
  2. খ)

    কুব্বাতুস সাখরা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে উমাইয়া খিলাফতের কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উত্ত শাসকের নীতিসমূহ উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী ছিল? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী ছিল দামেস্কে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কুব্বাতুস সাখরা' (বা ডোম অব দ্য রক) হলো জেরুজালেমের পবিত্র পাহাড় বা পাথরের ওপর নির্মিত একটি অষ্টকোণাকৃতির গম্বুজবিশিষ্ট ঐতিহাসিক স্থাপত্য। উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ৬৯১-৬৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটি নির্মাণ করেন। ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, যে পবিত্র পাথর থেকে মহানবি (স.) মিরাজে গমন করেছিলেন, সেটিকে কেন্দ্র করেই মনোরম এই স্থাপত্যটি নির্মিত হয়েছিল। এটি ইসলামি স্থাপত্যকলার অন্যতম আদি ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের চরিত্রের সাথে উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় ওমরের (ওমর বিন আব্দুল আজিজ) সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাদশাহ নাসিরউদ্দিন সুবিশাল সাম্রাজ্যের শাসক হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ভোগবিলাস ত্যাগ করে অত্যন্ত অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন, নিজের পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ অনুযায়ী শাসন পরিচালনা করতেন।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজও রাজকীয় জাঁকজমক ও বিলাসিতা বর্জন করে খোলাফায়ে রাশেদীনের মতো সাধারণ ও সংযমী জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বায়তুল মালকে জনগণের আমানত মনে করতেন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতেন না। ইসলামি অনুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কারণে তাকে 'পঞ্চম খলিফা'ও বলা হয়ে থাকে। সুতরাং, ধার্মিকতা, অনাড়ম্বর জীবন এবং ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসের দিক দিয়ে উদ্দীপকের বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে খলিফা দ্বিতীয় ওমরের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি খলিফা দ্বিতীয় ওমর (ওমর বিন আব্দুল আজিজ)-এর গৃহীত কিছু নীতি পরোক্ষভাবে উমাইয়া বংশের পতনের পথকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল।

    খলিফা দ্বিতীয় ওমর ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও ধর্মপ্রাণ শাসক। তিনি উমাইয়াদের পূর্ববর্তী বংশানুক্রমিক ও স্বৈরাচারী নীতি ত্যাগ করে সমতা ও ইনসাফভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আদর্শিক নীতিগুলো সমকালীন উমাইয়া সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিকূলে চলে যায়:

    ১. রাজস্ব হ্রাস: তিনি নবদীক্ষিত অমুসলিমদের (মাওয়ালিদের) ওপর থেকে 'জিজিয়া' কর প্রত্যাহার করেন। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলেও রাজকোষে কর আদায় কমে গিয়ে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়।
    ২. সামরিক অভিযান স্থগিত: তিনি সাম্রাজ্য বিস্তার ও সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেন, যার ফলে উমাইয়াদের অজেয় সামরিক শক্তির ছন্দপতন ঘটে এবং সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে।
    ৩. উমাইয়া অভিজাতদের ক্ষোভ: খলিফা উমাইয়া পরিবারের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা এবং বাজেয়াপ্ত জমি ফেরত নেওয়ার ফলে উমাইয়া গোত্রের অভিজাতরা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়, যা তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বিনষ্ট করে।
    ৪. বিরোধীদের সুযোগ সৃষ্টি: তার অতি উদার ও ক্ষমাশীল নীতির সুযোগ নিয়ে খারিজি, শিয়া এবং আব্বাসীয়রা গোপনে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়।

    পরিশেষে বলা যায়, ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ওমর বিন আব্দুল আজিজের নীতিসমূহ অত্যন্ত মহৎ ও প্রশংসনীয় হলেও বাস্তব রাজনীতি ও উমাইয়া রাজবংশের স্থায়িত্বের জন্য তা ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছিল, যা প্রকারান্তরে উমাইয়াদের পতনের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন