মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিম তার বন্ধু করিমকে বলল, মানব শিশু ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সময় সামাজিকীকরণের মাধ্যমে তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ। ধারণার বিকাশ লাভ করে থাকে যেটি ইতিবাচক ও নেতিবাচক হতে পারে। এই ধারণার প্রেক্ষিতে ব্যক্তি কোনো কিছুর পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করে থাকে। অন্যদিকে করিম বলল, অর্জিত এই ধারণাটি। আবার পরিবর্তনও হয়ে থাকে। এর পরিবর্তন-সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে হাইডার (১৯৫৮, ১৯৬৪) এবং নিউকম্ব (১৯৫৩, ১৯৫৯) প্রণীত মতবাদটি উল্লেখযোগ্য। এই মতবাদে তারা অবহিতিকে ওই ধারণার একটি অন্যতম উপাদান বলে উল্লেখ করেছেন।
- ক)(1)
বদ্ধমূল ধারণা কী?
- খ)(2)
পূর্বসংস্কার সহজাত নয় কেন?
- গ)(3)
রহিম যে ধারণার কথা বলছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
করিম যে মতবাদের প্রতি ইঙ্গিত করছে তার দুটি অবস্থা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তি বা দল সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য বা বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া পূর্বে গড়ে ওঠা দৃঢ় ও পরিবর্তন-অসহিষ্ণু অতিসরলীকৃত বিশ্বাসকে বদ্ধমূল ধারণা (Stereotype) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্বসংস্কার সহজাত নয়, বরং পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয়। মানুষ জন্মগতভাবে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা বিষয়ের প্রতি পক্ষপাত বা বিরূপ মনোভাব নিয়ে জন্মায় না। পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ, সংস্কৃতি ও পারিপার্শ্বিক ব্যক্তিবর্গের পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিকীকরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ব্যক্তি মনে পূর্বসংস্কার গড়ে ওঠে। যেহেতু এটি অভিজ্ঞতালব্ধ ও শিখনপ্রসূত, তাই এটি সহজাত নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিম যে ধারণার কথা বলেছে, তা হলো 'মনোভাব' (Attitude)।
কোনো ব্যক্তি, বস্তু, বিষয় বা ঘটনার প্রতি অনুকূল বা প্রতিকূলভাবে সাড়া দেওয়ার স্থায়ী মানসিক প্রস্তুতি বা প্রবণতাকে মনোভাব বলে। সামাজিকীকরণের মধ্য দিয়ে শৈশব থেকে ব্যক্তি নানা অভিজ্ঞতা ও সামাজিক প্রভাবের দ্বারা মনোভাব গঠন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিম উল্লেখ করেছে যে মানব শিশু সামাজিকীকরণের মাধ্যমে এমন একটি ধারণার বিকাশ ঘটায় যা ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে এবং এর ভিত্তিতে ব্যক্তি কোনো কিছুর পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করে। মনোবিজ্ঞানে এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি মনোভাবকে নির্দেশ করে। মনোভাবের মূলত তিনটি উপাদান রয়েছে: অবহিতিমূলক (Cognitive), আবেগীয় বা অনুভূতিমূলক (Affective), এবং আচরণগত বা ক্রিয়ামূলক (Behavioral)। মনোভাব ইতিবাচক হলে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং নেতিবাচক হলে বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
করিম যে মতবাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছে তা হলো মনোভাব পরিবর্তনের 'ভারসাম্য মতবাদ' (Balance Theory), যা ফ্রিটজ হাইডার (Fritz Heider) প্রবর্তন করেন এবং পরবর্তীতে নিউকম্ব সম্প্রসারিত করেন।
হাইডার তাঁর তত্ত্বে ব্যক্তি (P), অন্য ব্যক্তি (O) এবং কোনো বস্তু বা বিষয় (X)-কে নিয়ে গঠিত একটি ত্রিভুজাকার সম্পর্কের (P-O-X) মাধ্যমে মনোভাবের স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তন ব্যাখ্যা করেছেন। করিমের নির্দেশিত এই মতবাদের দুটি প্রধান অবস্থা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভারসাম্য অবস্থা (Balanced State): এই অবস্থায় তিনটি উপাদানের (P, O, X) মধ্যকার সম্পর্কগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সংগতিপূর্ণ হয়, যার ফলে ব্যক্তিমনে কোনো মানসিক চাপ বা অস্বস্তি সৃষ্টি হয় না। হাইডারের মতে, তিনটি ইতিবাচক (+) সম্পর্ক থাকলে কিংবা দুটি নেতিবাচক (-) ও একটি ইতিবাচক (+) সম্পর্কের গুণফল যদি ধনাত্মক (+) হয়, তবে সেটি ভারসাম্য অবস্থা তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি রহিম (P) তার বন্ধু করিমকে (O) পছন্দ করে (+) এবং উভয়েই খেলাধুলা (X) পছন্দ করে (+), তবে তাদের মধ্যে ভারসাম্য অবস্থা বজায় থাকে।
২. ভারসাম্যহীন অবস্থা (Unbalanced State): এই অবস্থায় উপাদানগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক পরস্পরবিরোধী বা অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, যার ফলে ব্যক্তিমনে মানসিক অস্বস্তি, দ্বন্দ্ব ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। সম্পর্কগুলোর চিহ্নের গুণফল যদি ঋণাত্মক (-) হয়, তখন ভারসাম্যহীন অবস্থা তৈরি হয় (যেমন—তিনটি সম্পর্কই নেতিবাচক হলে কিংবা দুটি ইতিবাচক ও একটি নেতিবাচক হলে)। উদাহরণস্বরূপ, রহিম যদি করিমকে পছন্দ করে (+), কিন্তু রহিম একটি বিষয় (X) পছন্দ করে (+) আর করিম সেই বিষয়টিকে অপছন্দ করে (-), তবে তাদের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব ও ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। মানুষ সাধারণত ভারসাম্যহীনতা পছন্দ করে না; তাই ভারসাম্যহীন অবস্থা মানুষকে তার মনোভাব পরিবর্তন করে পুনরায় ভারসাম্য অবস্থায় ফিরে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও