যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
কাশেম মিয়া পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া অল্প কয়েক খণ্ড জমিতে অধিক ফসল পাওয়ার আশায় তিনি জমিগুলোকে উর্বরতার ভিত্তিতে দু'ভাগে ভাগ করে উর্বর জমিতে তরমুজ এবং অনুর্বর জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করলেন। তার উর্বর জমিতে তরমুজের ফসল খুব ভালো হয়েছে। তিনি তরমুজগুলোকে বড়, গোলাকার ও সবুজ এই তিন ভাগে ভাগ করেন।
- ক)(1)
অঙ্গগত বিভাগ কী?
- খ)(2)
'উল্লম্ফন বিভাগ' অনুপপত্তি কখন ঘটে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কাশেম মিয়ার জমি ভাগ করার পদ্ধতি যৌক্তিক বিভাগের কোন নিয়মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তরমুজ ভাগ করার ক্ষেত্রে কাশেম মিয়া যৌক্তিক বিভাগের কি যথার্থ নিয়ম পালন করেছে?-এ ব্যাপারে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি সামগ্রিক বা মূর্ত বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা গাঠনিক অংশে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে অঙ্গগত বিভাগ (Physical Division) বলে। যেমন: একটি মানুষকে হাত, পা, মাথা ইত্যাদিতে ভাগ করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক বিভাগের চতুর্থ নিয়ম অনুযায়ী, আসন্নতম জাতিকে পর্যায়ক্রমে উপজাতিতে ভাগ করতে হবে, কোনো মধ্যবর্তী ধাপ বা জাতিকে বাদ দিয়ে বিভাগ করা যাবে না। যদি বিভাগ করার সময় এই মধ্যবর্তী স্তরকে এড়িয়ে যাওয়া বা বাদ দেওয়া হয়, তবে যে যৌক্তিক ত্রুটি দেখা দেয় তাকে 'উল্লম্ফন বিভাগ অনুপপত্তি' (Fallacy of leap division) বলে। যেমন: জীবকে সরাসরি কৃষ্ণাঙ্গ, শ্বেতাঙ্গ ইত্যাদিতে ভাগ করলে মানুষ নামক মধ্যবর্তী স্তরকে ডিঙিয়ে যাওয়ায় এই দোষ ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাশেম মিয়ার জমি ভাগ করার পদ্ধতি যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মে বলা হয়েছে—বিভাগ সবসময় কোনো একটি জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে উপজাতিসমূহে ভাগ করবে, কোনো একক বা বিশিষ্ট বস্তু বা ব্যক্তিকে নয়। এছাড়া বিভাগ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি মূলনীতি বা ভিত্তি থাকতে হবে। এখানে কাশেম মিয়া তার জমিগুলোকে 'উর্বরতা'কে একটি মাত্র মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে উর্বর ও অনুর্বর—এই দুটি উপজাতিতে বা পরস্পর বিসংবাদী শ্রেণিতে ভাগ করেছেন, যা একটি বিজ্ঞানসম্মত ও দ্বিকোটিক যৌক্তিক বিভাগের অনুরূপ।
যেহেতু কাশেম মিয়া একটি নির্দিষ্ট মূলনীতি (উর্বরতা) অনুসরণ করে জমিকে দুটি পরিপূরক ও সুস্পষ্ট ভাগে বিভক্ত করেছেন, তাই তার জমি ভাগের পদ্ধতি যৌক্তিক বিভাগের নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তরমুজ ভাগ করার ক্ষেত্রে কাশেম মিয়া যৌক্তিক বিভাগের যথার্থ নিয়ম পালন করেননি। আমার এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি নিচে দেওয়া হলো:
যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়মে বলা হয়েছে, একটি বিভাগ প্রক্রিয়ায় সবসময় কেবল একটিমাত্র মূলসূত্র বা ভিত্তি (Fundamental principle) গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে একাধিক মূলনীতি গ্রহণ করা যায় না। যদি একই সঙ্গে একাধিক মূলসূত্র গ্রহণ করে বিভাগ করা হয়, তবে 'সংকর বিভাগ' (Cross division) নামক অনুপপত্তি দেখা দেয়।
উদ্দীপকে কাশেম মিয়া তরমুজগুলোকে 'বড়', 'গোলাকার' ও 'সবুজ'—এই তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এখানে তিনি একসাথে আকার (বড়), আকৃতি (গোলাকার) ও বর্ণ (সবুজ)—এই তিনটি ভিন্ন মূলসূত্র গ্রহণ করেছেন। ফলে উপজাতিগুলো পরস্পরকে বর্জন করতে পারে না; অর্থাৎ একটি তরমুজ একই সাথে বড়, গোলাকার এবং সবুজ রঙের হতে পারে। এতে শ্রেণিগুলো পরস্পর বিজড়িত হয়ে পড়েছে।
সুতরাং, কাশেম মিয়া একই সাথে একাধিক মূলনীতি প্রয়োগ করে 'সংকর বিভাগ অনুপপত্তি' ঘটিয়েছেন। তাই তরমুজ ভাগ করার ক্ষেত্রে তিনি যৌক্তিক বিভাগের যথার্থ নিয়ম পালন করেননি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও