ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রাচীন রুশ দেশীয় একজন প্রজাহিতৈষী রাজা ছিলেন। তার মহানুভবতায় আকৃষ্ট হয়ে দেশের অভ্যন্তরে একদল মানুষ তাকে ঈশ্বরের সাথে তুলনা করতে থাকেন। এতে রাজা বিব্রতবোধ করেন। উক্ত আচরণ, থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাজা তাদের বন্দি করেন। তাদের বন্দি করার ফলে রাজা বড় ধরনের দুর্যোগের হাত হতে রক্ষা পায়। এর ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা দূরীভূত হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ক)(1)
আব্বাসি খিলাফতের পরিসমাপ্তি ঘটে কত সালে?
- খ)(2)
'বায়তুল হিকমা' বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত রুশ দেশীয় রাজার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার আলোকে বলা যায় রুশ দেশীয় রাজার মতো উক্ত শাসকও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দ্বারা মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১২৫৮ সালে হালাকু খান কর্তৃক বাগদাদ ধ্বংসের মাধ্যমে আব্বাসি খিলাফতের পরিসমাপ্তি ঘটে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বায়তুল হিকমা' শব্দের অর্থ জ্ঞানের গৃহ বা জ্ঞানাগার। আব্বাসি খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও অনুবাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। এটি একাধারে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, অনুবাদ কেন্দ্র এবং উচ্চতর গবেষণা একাডেমি হিসেবে কাজ করত, যেখানে গ্রিক, ফারসি, সংস্কৃত প্রভৃতি ভাষার বহু মূল্যবান গ্রন্থ আরবিতে অনূদিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত রুশ দেশীয় রাজার ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত আব্বাসি খলিফা আল-মনসুরের আমলে সংঘটিত 'রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ' দমনের ঘটনার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের প্রজাহিতৈষী রাজাকে অতিভক্তির কারণে একদল মানুষ ঈশ্বরের আসনে বসাতে চায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে রাজা তাদের বন্দি করেন।
আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের শাসনামলে খোরাসান থেকে আগত রাওয়ান্দিয়া নামক এক চরমপন্থী শিয়া গোষ্ঠী খলিফাকে 'রব' বা ঈশ্বরের অবতার মনে করে তাঁর প্রাসাদ তাওয়াফ ও উপাসনা করতে শুরু করে। মনসুর চরম একেশ্বরবাদী মুসলিম শাসক হিসেবে নিজেকে খোদা দাবি করার মতো কুফরি আচরণ প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের এ পথ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা বিরত না হওয়ায় খলিফা তাদের নেতাদের বন্দি করেন। এর ফলে রাওয়ান্দিয়ারা খলিফার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনার সাথে খলিফা আল-মনসুর ও রাওয়ান্দিয়াদের ঘটনার সরাসরি মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার আলোকে এটি সম্পূর্ণ সত্য যে, রুশ দেশীয় রাজার মতো আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরও তাঁর অসাধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাহসিকতা দ্বারা খিলাফতকে মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।
উদ্দীপকের রাজা চরমপন্থী দলকে কঠোরভাবে বন্দি ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশকে বড় ধরনের বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করে শান্তি ফিরিয়ে আনেন।
ইসলামের ইতিহাসে রাওয়ান্দিয়ারা যখন খলিফা আল-মনসুর কর্তৃক বন্দি হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে কারাগার ভেঙে খলিফার রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করে এবং খলিফাকে হত্যার উপক্রম করে, তখন এক চরম সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খলিফা মনসুর তখন নিরাপত্তারক্ষীদের অপেক্ষা না করে অত্যন্ত সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার সাথে সামান্য কয়েকজন প্রহরী নিয়ে স্বয়ং প্রাসাদের বাইরে এসে বিদ্রোহীদের মুখোমুখি হন। এমন সময় মান ইবনে জায়েদা নামক এক বীরের নেতৃত্বে সরকারি বাহিনী এসে খলিফার সাহায্যে যোগ দেয় এবং তীব্র সংঘর্ষের পর রাওয়ান্দিয়া বিদ্রোহীদের সম্পূর্ণরূপে দমন ও নির্মূল করা হয়।
যদি খলিফা আল-মনসুর সে সময় চরম সাহসিকতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন না করতেন, তবে নবপ্রতিষ্ঠিত আব্বাসি খিলাফত অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে চরম নৈরাজ্যের সৃষ্টি হতো। অতএব, বলা যায় রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমেই খলিফা আল-মনসুর আব্বাসি সাম্রাজ্যকে এক মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও