ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
মনিরা ও সাবিহা একটি আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। মনিরা অবৈধ পন্থায় প্রচুর অর্থ উপার্জন করে এবং মনে করে এটিই তার জীবনের বড় সফলতা। তবে সাবিহা তার চাকরির বেতনে সংসার চালায় এবং বিশ্বাস করেন, “আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় উপার্জনে বরকত আছে।"
- ক)(1)
দাম্পত্য জীবন কী?
- খ)(2)
'জুয়া মানুষকে কর্মবিমুখ করে'- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মনিরার ধারণার সাথে তুমি কি একমত? মতামত দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সাবিহার মন্তব্য "আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় উপার্জনে বরকত আছে।" - উক্তিটি বিশ্লেষণপূর্বক এর সামাজিক প্রভাব বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিবাহের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে বৈধভাবে যে স্থায়ী পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকে দাম্পত্য জীবন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জুয়া একটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ, কারণ এতে বিনা শ্রমে অন্যের অর্থ অন্যায়ভাবে আত্মসাতের সুযোগ খোঁজা হয়। জুয়াড়িরা পরিশ্রম ও উৎপাদনশীল কাজে সময় ব্যয় না করে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে দ্রুত ধনী হওয়ার মিথ্যা স্বপ্নে বিভোর থাকে। এর ফলে তাদের কাজের প্রতি অনীহা ও আলস্য সৃষ্টি হয়। এজন্য ইসলামে জুয়াকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, কারণ এটি মানুষকে কর্মবিমুখ করে এবং ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মনিরার ধারণার সাথে আমি একমত নই।
ইসলামে সততা ও হালাল উপার্জনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অবৈধ পন্থায় সম্পদ বা অর্থ উপার্জন করাকে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। হারাম উপায়ে বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জন করা কোনো সফলতা নয়, বরং তা দুনিয়াতে মানসিক অশান্তি এবং আখিরাতে কঠিন শাস্তির কারণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ গ্রাস করতে নিষেধ করেছেন।
উদ্দীপকে মনিরা অবৈধ পন্থায় প্রচুর অর্থ উপার্জন করে সেটিকে জীবনের বড় সফলতা মনে করে। কিন্তু নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের উপার্জন সম্পূর্ণ অনৈতিক ও পাপের কাজ। হারাম সম্পদ মানুষের ইহকালীন বরকত নষ্ট করে এবং পরকালে জাহান্নামের শাস্তির কারণ হয়। তাই মনিরার এ চিন্তাভাবনা সম্পূর্ণ ভুল ও অগ্রহণযোগ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাবিহার মন্তব্যটি হলো—"আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় উপার্জনে বরকত আছে।" এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ উক্তি, যা হালাল উপার্জনের গুরুত্ব নির্দেশ করে।
আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় উপার্জিত জীবিকাকে 'হালাল রিযিক' বলা হয়। পরিমাণে কম হলেও হালাল উপার্জনে আল্লাহ বিশেষ বরকত ও কল্যাণ দান করেন। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মিক তৃপ্তি ও মানসিক শান্তি অর্জিত হয় এবং আল্লাহর দরবারে ইবাদাত কবুল হয়।
হালাল উপার্জনের সামাজিক প্রভাব অপরিসীম:
১. সামাজিক ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা: সমাজে সবাই হালাল ও সৎ পথে উপার্জনে সচেষ্ট হলে চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, দুর্নীতি ও কালোবাজারির মতো অপরাধ নির্মূল হয়।
২. সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ: অবৈধ উপায়ে অন্যের হক নষ্ট না হওয়ায় সমাজে পারস্পরিক আস্থা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।
৩. অর্থনৈতিক ভারসাম্য: বৈধ উপার্জনের ফলে সমাজে অর্থের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস পায়।অতএব, সাবিহার বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় উপার্জন ব্যক্তিজীবনে বরকত নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও