গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

সুপ্তি বাবা-মার খুব আদরের সন্তান। তার বয়স 88 মাস। ইদানীং সে তার আনন্দানুভূতি প্রকাশ করতে পারে। বাবা অফিস থেকে ফিরে এসে তাকে কোলে নিলে সে বেজায় খুশি হয়। মুখ দিয়ে নানা ধরনের শব্দ করে। “বা-বা, তা-তা, না-না” ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করে বাবাকে আনন্দ দেয়।

  1. ক)

    শিশুর মধ্যে কত মাস বয়সে পরিতৃপ্তি লক্ষ করা যায়?

    (1)
  2. খ)

    বয়স অনুসারে শিশুর সামাজিক বিকাশ সম্পর্কে ধারণা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সুপ্তির আনন্দ প্রকাশ করা প্রাক-শৈশবকালের শিশুর কোন বিকাশকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সুপ্তির ভাষার বিকাশ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিশুর মধ্যে ৩ মাস বা ৩-৪ মাস বয়সে পরিতৃপ্তি (delight) লক্ষ করা যায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিশুর সামাজিক বিকাশ হলো পরিবেশের অন্যান্য মানুষের সাথে খাপ খাইয়ে চলা ও সম্পর্কের উন্নয়ন। জন্মের পর শিশুর সামাজিক পরিমণ্ডল শুধু মায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ২-৩ মাসে শিশু পরিচিত মুখ দেখে হাসে। ৪-৫ মাসে অন্য শিশুদের প্রতি আগ্রহ দেখায়। ৮-৯ মাসে অপরিচিতদের দেখে ভয় পায় বা লজ্জা পায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে (২-৩ বছর থেকে প্রাক-বিদ্যালয় বয়সে) শিশু অন্যদের সাথে মেলামেশা, খেলনা ভাগাভাগি এবং সমবয়সীদের সাথে দলগত খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক আচরণ রপ্ত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সুপ্তির আনন্দ প্রকাশ করা প্রাক-শৈশবকালের শিশুর 'আবেগীয় বিকাশ'কে (Emotional Development) নির্দেশ করে।

    আবেগ হলো তীব্র অনুভূতি যা আনন্দ, ভয়, ক্রোধ, ভালোবাসা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। জন্মের সময় শিশুর আবেগের অনুভূতি সুস্পষ্ট থাকে না, কেবল অস্বস্তি বা সাধারণ উত্তেজনা প্রকাশ পায়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন ইতিবাচক ও নেতিবাচক আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সুপ্তির বয়স কম (প্রকৃতপক্ষে ৮-১০ মাস বা প্রাক-শৈশবের সূচনা) এবং সে তার আনন্দানুভূতি প্রকাশ করতে পারে। বাবা অফিস থেকে ফিরে তাকে কোলে নিলে সে অত্যন্ত খুশি হয় এবং আনন্দ প্রকাশ করে। বাবার প্রতি এই ভালোবাসা ও খুশি প্রকাশ শিশুর আবেগীয় বিকাশ ও পরিতৃপ্তির প্রতিফলন ঘটায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সুপ্তির ভাষার বিকাশ প্রাথমিক বা প্রাক-ভাষিক (Pre-linguistic) পর্যায়ে রয়েছে—উক্তিটি যথার্থ।

    ভাষা বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশু অর্থপূর্ণ কোনো বাক্য বলতে পারে না। জন্মের শুরুতে কান্নার মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু হলেও কূয়িং (Cooing) এবং পরবর্তীতে ব্য্যাব্লিং (Babbling) স্তরের মাধ্যমে শিশু ভাষার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সাধারণত ৬-৮ মাস বয়স থেকে শিশু অর্থহীন দ্বিত্ব ব্যঞ্জনবর্ণ ও স্বরবর্ণের পুনরাবৃত্তি যেমন- 'বা-বা', 'মা-মা', 'দা-দা', 'তা-তা' ইত্যাদি উচ্চারণ করে, যা ব্যাবলিং স্তর হিসেবে পরিচিত।

    উদ্দীপকে সুপ্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, সে মুখ দিয়ে নানা ধরনের শব্দ করে এবং “বা-বা, তা-তা, না-না” ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করে। এগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণগত অর্থপূর্ণ বাক্য নয়, বরং এটি ভাষার প্রাক-ভাষিক বা প্রাথমিক ব্যাবলিং স্তর। এসব শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমেই শিশু ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ কথা বলা শেখে। সুতরাং, সুপ্তির ভাষার বিকাশ এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন