জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
তাজরী ও তাসফিয়া দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন জীবাণু দ্বারা জ্বরে আক্রান্ত। তাজরীর অণুজীবটি অকোষীয় এবং অণুচক্রিকাকে ধ্বংস করলেও তাসফিয়ার অণুজীবটি কোষীয় এবং লোহিত কণিকাকে ধ্বংস করে।
- ক)(1)
মেরোজাইগোট কী?
- খ)(2)
সুপ্তাবস্থা বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তাসফিয়ার অণুজীবটি লোহিত কণিকায় আক্রমণের চক্রটি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তাজরীর জ্বরের প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাকটেরিয়ার যৌন জনন প্রক্রিয়ায় (যেমন কনজুগেশন) দাতা ব্যাকটেরিয়া থেকে জিনগত বস্তুর আংশিক স্থানান্তরের ফলে গ্রহীতা ব্যাকটেরিয়ায় যে আংশিক ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠিত হয়, তাকে মেরোজাইগোট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পোষক দেহে জীবাণু প্রবেশের পর থেকে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময়কালকে সুপ্তাবস্থা (Incubation Period) বলে। এ সময়ে জীবাণুটি পোষকদেহে বংশবৃদ্ধি করে লক্ষণ প্রকাশের উপযুক্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তাসফিয়ার অণুজীবটি হলো ম্যালেরিয়ার পরজীবী (Plasmodium)। এর লোহিত কণিকায় আক্রমণের চক্রটি হলো এরিথ্রোসাইটিক সাইজন্ট/সাইজোগনি (Erythrocytic Schizogony)। এর ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. ট্রফোজয়েট পর্যায়: যকৃত থেকে নির্গত ক্রিপ্টোমেরোজয়েট লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে গোল আকার ধারণ করে। সাইটোপ্লাজম খাদ্য গ্রহণ করে বড় হয় এবং মাঝে একটি গহ্বর দেখা দেয়। এই অবস্থাকে ট্রফোজয়েট বলে।
২. সিগনেট রিং পর্যায়: গহ্বরটি আকারে বড় হলে নিউক্লিয়াস একপাশে সরে যায়। এতে এটিকে আংটির মতো দেখায়, যাকে সিগনেট রিং বলে।
৩. অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট: ক্ষণপদ সৃষ্টি করে খাদ্য গ্রহণ করায় এটি অ্যামিবার মতো আকার ধারণ করে। এ সময় রক্তকণিকায় শাফনার্স কণা দেখা দেয়।
৪. সাইজন্ট পর্যায়: নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বারবার বিভাজিত হয়ে ১২-১৮টি অপত্য নিউক্লিয়াস তৈরি করে। এই অবস্থাকে সাইজন্ট বলে। হিমোগ্লোবিনের অবশিষ্টাংশ থেকে হিমোজয়েন নামক বিষাক্ত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
৫. রোজেট পর্যায়: প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারপাশে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে মোরোজয়েট তৈরি করে। এগুলো গোল হয়ে গোলাপের পাপড়ির মতো সাজানো থাকে, যাকে রোজেট বলে।
৬. মেরোজয়েট মুক্তি: অবশেষে লোহিত কণিকা বিদীর্ণ হয়ে মেরোজয়েট ও হিমোজয়েন রক্তরসে মুক্ত হয়। এগুলো নতুন লোহিত কণিকাকে আক্রমণ করে চক্রটি বজায় রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তাজরীর অণুজীবটি অকোষীয় এবং অণুচক্রিকা (প্লেটলেট) ধ্বংস করায় তা হলো ডেঙ্গু ভাইরাস (ফ্ল্যাভিভাইরাস) এবং রোগটি হলো ডেঙ্গু জ্বর। এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রতিকার ব্যবস্থা:
১. বিশ্রাম ও তরল গ্রহণ: রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি, ওরাল স্যালাইন, ফলের রস ও ডাবের পানি খাওয়াতে হবে।
২. জ্বর নিয়ন্ত্রণ: জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল সেবন করা যাবে। তবে অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য ব্যথানাশক ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায় বলে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩. প্লেটলেট পর্যবেক্ষণ: নিয়মিত রক্তের প্লাটিলেট ও হেমাটocrit পরীক্ষা করতে হবে। প্লেটলেট বিপদজনক মাত্রায় কমে গেলে বা রক্তক্ষরণ হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনে রক্ত বা প্লেটলেট সঞ্চালন করতে হবে।প্রতিরোধের উপায়:
১. মশার বংশবৃদ্ধি রোধ: ডেঙ্গুর বাহক হলো এডিস মশা। ঘরের ভেতরে ও আশেপাশে ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা ইত্যাদিতে জমে থাকা পরিষ্কার পানি ৩ দিনের মধ্যে ফেলে দিতে হবে।
২. মশা নিধন: কীটনাশক বা অ্যারোসল স্প্রে করে উড়ন্ত মশা নিধন করতে হবে এবং লার্ভানাশক ব্যবহার করে লার্ভা ধ্বংস করতে হবে।
৩. কামড় থেকে সুরক্ষা: দিনের বেলায় এডিস মশা বেশি কামড়ায়, তাই দিনে ঘুমানোর সময়ও মশারি টানাতে হবে। জানালায় নেট এবং শরীরে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা উচিত।
সচেতনতা ও প্রতিরোধই ডেঙ্গু থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও