‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মৌলিক গণতন্ত্রের প্রবক্তা কে?

    (1)
  2. খ)

    ছয় দফা কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ছকটিতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি যে বৈষম্য দেখানো হয়েছে তার আলোকে অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    এ সকল বৈষম্যই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে স্বাধীনতার পথে ধাবিত করে- তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক গণতন্ত্রের প্রবক্তা ছিলেন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছয় দফা হলো ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবিনামা।

    ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন। এটি ছিল মূলত বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। ছয় দফার মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে প্রদেশগুলোর হাতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা বা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কর ধার্যের ক্ষমতা এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবি জানানো হয়েছিল। একে 'বাঙালির মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সামরিক ক্ষেত্রে (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে) পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে প্রকট বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে, যা মূলত সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    পাকিস্তানের জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ (প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি) ব্যয় হতো প্রতিরক্ষা খাতে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সেনাবাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তানের অংশ ৯৫% এবং পূর্ব পাকিস্তানের মাত্র ৫%, নৌবাহিনীতে যথাক্রমে ৮১% ও ১৯%, এবং বিমান বাহিনীতে ৯১% ও ৯%। সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব নগণ্য হওয়ায় প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় সমস্ত অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হতো এবং তা পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করত।

    এছাড়া অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও চরম বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাট ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও উন্নয়নে। কেন্দ্রীয় রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ এবং বৈদেশিক সাহায্যের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত থাকত। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ লুট হয়ে পশ্চিম পাকিস্তান সমৃদ্ধিশালী হয়ে ওঠে এবং পূর্ব পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে ক্রমশ পঙ্গু হয়ে পড়ে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সামরিক বৈষম্যসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল প্রকার বৈষম্যই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার পথে ধাবিত করেছিল— এ বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য ও শোষণের শিকার হয়। উদ্দীপকের ছকে সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের নগণ্য উপস্থিতি তৎকালীন বৈষম্যের এক বাস্তব চিত্র প্রদর্শন করে। প্রতিরক্ষা, প্রশাসন ও কর্মসংস্থানে বাঙালিদের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয়েছিল।

    পাশাপাশি অর্থনৈতিক শোষণ, মাতৃভাষার ওপর আঘাত, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার পাকিস্তানি নীতি বাঙালিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় ছিল এই বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ।

    নির্বাচনে জয়লাভের পরও যখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করে, তখন বাঙালিদের কাছে স্বাধীনতা ছাড়া আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট ছিল না। সুতরাং, দীর্ঘ দুই যুগের তীব্র অর্থনৈতিক ও সামরিক বৈষম্যই বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও স্বাধীনতা অর্জনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন