অর্থনীতি ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জাতীয় আয় Y = Σ\Sigmar + Σ\Sigmaw + £i + Σ\Sigmaπ\pi যেখানে r= খাজনা, w = মজুরি, i = সুদ, π\pi =মুনাফা, C = যোগফল ।
- ক)(1)
দ্বৈত গণনা সমস্যা কী?
- খ)(2)
জাতীয় আয় হিসাবের সময় কেবল চূড়ান্ত দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি জাতীয় আয় পরিমাপের কোন পদ্ধতি নির্দেশ করে এবং কেন?
- ঘ)(4)
জাতীয় আয় পরিমাপের এ পদ্ধতি উন্নয়নশীল দেশে কার্যকর কিনা তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় আয় পরিমাপে একই দ্রব্য বা সেবার মূল্য একাধিকবার গণনা করা হলে তাকে দ্বৈত গণনা সমস্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় আয় গণনার সময় যেন দ্বৈত গণনার সমস্যা (Double Counting Problem) না ঘটে, সেজন্য কেবল চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবাকর্ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কোনো চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যের মূল্য ইতোমধ্যে সংযোজিত থাকে। যদি প্রাথমিক ও মধ্যবর্তী দ্রব্যের মূল্য পৃথকভাবে যোগ করা হয়, তবে একই পণ্যের মূল্য একাধিকবার গণনা হয়ে যাবে এবং জাতীয় আয়ের প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি প্রদর্শিত হবে। এ জটিলতা এড়াতেই শুধু চূড়ান্ত দ্রব্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি জাতীয় আয় পরিমাপের 'আয় পদ্ধতি' (Income Method)-কে নির্দেশ করে।\n\nকারণ: অর্থনীতিতে উৎপাদনের প্রধান চারটি উপকরণ রয়েছে— ভূমি, শ্রম, মূলধন এবং সংগঠন। একটি নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে এই উপকরণসমূহের অর্জিত প্রতিদান বা আয়ের সমষ্টিই হলো মোট জাতীয় আয়। উদ্দীপকে উল্লেখিত সমীকরণটি হলো:\n\nএখানে,\n খাজনা (ভূমির আয়),\n মজুরি (শ্রমের আয়),\n সুদ (মূলধনের আয়),\n মুনাফা (সংগঠনের আয়), এবং\n সমষ্টি বা যোগফল।\n\nযেহেতু এই পদ্ধতিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের সকল নাগরিক বা উৎপাদন উপকরণের মালিকদের অর্জিত সামগ্রিক আয়ের (খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা) সমষ্টি হিসেবে জাতীয় আয় পরিমাপ করা হয়েছে, তাই এটি সন্দেহাতীতভাবে জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতি নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় আয় পরিমাপের আয় পদ্ধতিটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে পুরোপুরি কার্যকর নয়। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি বিশ্লেষণ করা হলো:\n\n১. তথ্যের অপ্রতুলতা ও গোপনীয়তা: উন্নয়নশীল দেশে অধিকাংশ মানুষ তাদের প্রকৃত আয়ের তথ্য গোপন করে। বিশেষ করে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতার কারণে মানুষ সঠিক আয় প্রকাশ করে না।\n২. অনানুষ্ঠানিক খাতের প্রাধান্য: উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক (Informal Sector)। যেমন— দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গৃহস্থালির কাজ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আর্থিক আয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সঠিক হিসাব রাখা হয় না।\n৩. স্ব-নিয়োজিত আয় ও অবাণিজ্যিক উৎপাদন: এখানে কৃষক বা ক্ষুদ্র উৎপাদকরা উৎপাদিত পণ্যের একটি বড় অংশ নিজেরাই ভোগ করে, যা বাজারে বিক্রি হয় না। ফলে এগুলোর মাধ্যমে অর্জিত আয়ের আর্থিক পরিমাপ করা সম্ভব হয় না।\n৪. শিক্ষার অভাব ও সচেতনতার ঘাটতি: অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর ও অসচেতন হওয়ায় তারা ব্যক্তিগত হিসাব বা আয়ের নথি সংরক্ষণ করে না।\n\nঅতএব, তাত্ত্বিকভাবে আয় পদ্ধতি খুবই যৌক্তিক হলেও উন্নয়নশীল দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা, তথ্যের অভাব এবং বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির কারণে জাতীয় আয় পরিমাপের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিটি এককভাবে কার্যকর নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও