ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশ হংকং। স্বাধীনতা লাভের পর দেশটির নেতা রাষ্ট্রের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কিত ৪৭টি ধারার সমন্বয়ে একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা রাষ্ট্রে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
- ক)(1)
মদিনার পূর্বনাম কী?
- খ)(2)
'হিলফুল ফুজুল' বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধানের সাথে মহনবি (স) কর্তৃক গৃহীত কোন পদক্ষেপের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মহানবি (স) কর্তৃক গৃহীত সংবিধানের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মদিনার পূর্বনাম ছিল 'ইয়াসরিব' (Yathrib)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হিলফুল ফুজুল' হলো একটি শান্তিসংঘ বা কল্যাণমূলক সমিতি। ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তক্ষয় ও ধ্বংসলীলা দেখে ব্যথিত হয়ে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁর পিতৃব্য যুবাইরের সহযোগিতায় ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে কিছু উদ্যমী যুবককে নিয়ে এই সমিতি গঠন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল সমাজে শান্তি স্থাপন করা, আর্তপীড়িতদের সেবা করা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ করে দুর্বল ও মজলুমকে রক্ষা করা এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধানের সাথে মহানবি (স.) কর্তৃক গৃহীত ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ'-এর মিল রয়েছে।
৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) মদিনায় বসবাসরত মুহাজির, আনসার, ইহুদি ও অন্যান্য অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন ও একটি আদর্শ কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ৪৭টি (মতান্তরে ৫৩টি) ধারার একটি লিখিত চুক্তি বা সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বাধীনতা লাভের পর একটি দেশের নেতা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দায়িত্ব-কর্তব্য নির্ধারণের লক্ষ্যে ৪৭টি ধারাসংবলিত সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। মহানবি (স.)-ও মদিনা রাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪৭টি ধারার মদিনা সনদ প্রণয়ন করেছিলেন। তাই উদ্দীপকের পদক্ষেপটি সরাসরি মদিনা সনদকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে মহানবি (স.) কর্তৃক গৃহীত মদিনা সনদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এটি পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে বিবেচিত।
মদিনা সনদের মাধ্যমে বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মে বিভক্ত মদিনাবাসীকে একটি ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ বা জাতিতে পরিণত করা হয়। এতে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, ফলে মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিকরা নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার লাভ করে। এটি মদিনার অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে এবং গোত্রীয় সংঘাতের অবসান ঘটায়। বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ থেকে মদিনাকে রক্ষার জন্য নাগরিকদের ওপর যৌথ প্রতিরক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। সনদের মাধ্যমে মহানবি (স.)-কে মদিনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রধান বিচারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং দুর্বলদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, মদিনা সনদ ছিল রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দলিল, যা মদিনায় একটি সুশৃঙ্খল, অসাম্প্রদায়িক ও সার্বভৌম ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও