ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, যুদ্ধকালীন সময়ে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে নুরেমবার্গ ট্রায়াল এবং টোকিও ট্রায়াল গঠন করা হয়। যারা যুদ্ধকালীন সময়ে নিরপরাধ লোকদের হত্যা, সম্পদ লুট ও ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিল তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়।
- ক)(1)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
- খ)(2)
বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার জনগণের নিকট মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারের দায়বদ্ধতা- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য ও পঙ্গু করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও তাদের দোসর আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের তালিকা তৈরি করে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। বিশেষ করে ১৪ই ডিসেম্বর ব্যাপকভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) সাদৃশ্য রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনী ও জাপানি বাহিনীর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যেমন নুরেমবার্গ ও টোকিও ট্রায়াল গঠিত হয়েছিল, তেমনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের (রাজাকার, আলবদর) দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন' প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে এই আইনের আওতায় ২০১০ সালে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকার্য শুরু হয়, যা উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পরিপূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার জনগণের নিকট মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারের একটি অন্যতম প্রধান ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ছিল—এই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
১৯৭১ সালে প্রায় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এবং জাতির দীর্ঘদিনের কলঙ্ক মোচনের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অপরিহার্য ছিল। দীর্ঘ চার দশক ধরে শহীদ পরিবার এবং এদেশের আপামর জনসাধারণ এই বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। সরকার গঠিত হওয়ার পর ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে একাত্তরের ঘাতকদের বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকর করা হয়। এই বিচারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শহীদদের আত্মা শান্তি পেয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার জনগণের কাছে দেওয়া ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা পূরণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও