ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

তৌকির উচ্চশিক্ষার জন্য মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গিয়েছে। সেখানে সে এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। তা হলো সারা বছর রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করলেও বৃষ্টিপাত হয় শীতকালে।

  1. ক)

    আর্দ্রতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর অরণ্য সৃষ্টি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তৌকিরের গমনকৃত অঞ্চলটির জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তৌকিরের নিজের দেশ ও গমনকৃত দেশটির জলবায়ু আলাদা হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বায়ুতে উপস্থিত অদৃশ্য জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে আর্দ্রতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর অরণ্য সৃষ্টি হওয়ার প্রধান কারণ হলো সেখানে সারা বছর ব্যাপী বিরাজমান উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রচুর পরিচলন বৃষ্টিপাত।
    নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়ায় তাপমাত্রা প্রায় ২৭° সে থাকে এবং প্রতিদিন বিকেলবেলা প্রবল পরিচলন বৃষ্টিপাত হয় (বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০০-২৫০ সেমি)। পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ঘন, চিরহরিৎ বা চিরসবুজ গভীর অরণ্যের (সেলভা) সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলটিতে সারা বছর রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকলেও কেবল শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। এটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য।

    তৌকিরের গমনকৃত অঞ্চলটির জলবায়ুর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. শুষ্ক ও উষ্ণ গ্রীষ্মকাল: গ্রীষ্মকালে অঞ্চলটিতে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না এবং আকাশ মেঘমুক্ত ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে। গড় তাপমাত্রা ২১° থেকে ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে।
    ২. আর্দ্র ও মৃদু শীতকাল: শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বৃদ্ধির কারণে সমুদ্র থেকে আর্দ্র বায়ু প্রবেশ করে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। শীতকালে গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৫° থেকে ১০° সেলসিয়াস।
    ৩. বায়ুচাপ বলয়ের স্থানান্তর: গ্রীষ্মকালে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় উত্তর বা দক্ষিণে সরে আসার ফলে অঞ্চলটিতে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়, যার ফলে গ্রীষ্মকাল শুষ্ক থাকে। শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বলয়ে চলে আসায় প্রচুর বৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তৌকিরের নিজের দেশ বাংলাদেশ (ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু) এবং গমনকৃত দেশটি (ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু) ভিন্ন ধরনের জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এদের জলবায়ুর পার্থক্যের মূল কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভৌগোলিক অক্ষাংশীয় অবস্থান: বাংলাদেশ কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি (২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ) অবস্থিত হওয়ায় এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্গত। অন্যদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল উভয় গোলার্ধের ৩০° থেকে ৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে মহাদেশের পশ্চিমভাগে অবস্থিত।
    ২. বায়ুপ্রবাহের ভিন্নতা: বাংলাদেশে জলবায়ু মূলত ঋতুভিত্তিক মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। পক্ষান্তরে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে শুষ্ক বাণিজ্যিক আয়ন বায়ু এবং শীতকালে সমুদ্র থেকে আগত আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়।
    ৩. বৃষ্টিপাতের ঋতুগত বৈপরীত্য: বাংলাদেশে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে (জুন থেকে অক্টোবর) সারা বছরের প্রায় ৮০% বৃষ্টিপাত হয় এবং শীতকাল সম্পূর্ণ শুষ্ক থাকে। কিন্তু ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায়—এখানে গ্রীষ্মকাল থাকে শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল এবং শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়।

    অতএব, অক্ষাংশীয় অবস্থান এবং মৌসুমি বায়ুর বিপরীতে সাময়িক পশ্চিমা ও আয়ন বায়ুর প্রভাবের ভিন্নতার কারণেই অঞ্চল দুটির জলবায়ুর মধ্যে এমন সুস্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন