বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের একটি ছোট্ট গ্রাম রসুলপুর। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত। সভ্যতার ছোঁয়া বিবর্জিত এই গ্রাম অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারে পরিপূর্ণ। কারো অসুস্থতায় হাশেম মিয়ার স্বপ্নে পাওয়া তাবিজ, ঝাড়ফুঁক, পানিপড়া একমাত্র ভরসা। এ গ্রামের জরিনা অশিক্ষিত হলেও সে হাশেম মিয়ার ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাস করে না। প্রতিবাদী ও সাহসী জরিনা তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গ্রামের লোকদেরকে ঝাড়ফুঁকের অসাড়তার দিকটি বোঝানোর চেষ্টা করে।
- ক)(1)
'লালসালু' উপন্যাসের ফরাসি অনুবাদ করেন কে?
- খ)(2)
"দুনিয়াটা সবচেয়ে বিচিত্র জায়গা"-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের বিষয়গত সাদৃশ্য কোথায়?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের "জরিনা আর 'লালসালু'র জমিলা একে অপরের পরিপূরক" মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের ফরাসি অনুবাদ করেন তাঁর ফরাসি স্ত্রী অ্যান-মারি থিবো (Anne-Marie Thibaud)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"দুনিয়াটা সবচেয়ে বিচিত্র জায়গা"—উক্তিটি দ্বারা মানুষের বিচিত্র রূপ, উদ্দেশ্য এবং জীবনের অভাবনীয় গতিপ্রকৃতিকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় নিজের অনাহারক্লিষ্ট অঞ্চল ছেড়ে মহব্বতনগর গ্রামে আসে। সেখানে সে এক অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার সাজিয়ে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি কায়েম করে। মানুষের অজ্ঞতা, ভক্তি এবং ধর্মীয় দুর্বলতাকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং সাধারণ মানুষের ওপর কর্তৃত্ব বিস্তার করার মতো জটিল ও নাটকীয় বাস্তবতার আলোকেই দুনিয়ার এই বিচিত্র রূপ ফুটে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মানুষের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস, অজ্ঞতা এবং কুসংস্কারের সুযোগ নিয়ে ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীর প্রভাব বিস্তারের দিকটিতে বিষয়গত সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ ছিল ধর্মভীরু কিন্তু অজ্ঞ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তাদের এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে ভণ্ড মজিদ মাজারকেন্দ্রিক আধিপত্য গড়ে তোলে। পানিপড়া, ফুঁ এবং খোদার গজের ভয় দেখিয়ে সে গ্রামের মানুষের মন ও জীবন শাসন করে।
উদ্দীপকের রসুলপুর গ্রামের চিত্রটিও একই রকম। সেখানেও অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত ও অন্ধবিশ্বাসী। অসুস্থতায় বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার বদলে তারা হাশেম মিয়ার স্বপ্নে পাওয়া তাবিজ, ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়ার ওপর নির্ভর করে। এভাবে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে অন্ধবিশ্বাস জিইয়ে রাখার যে মানসিকতা রসুলপুরের হাশেম মিয়ার মধ্যে দেখা যায়, 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের কর্মকাণ্ডেও তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তাই এই দিকটিতে উভয়ের মধ্যে গভীর বিষয়গত সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের "জরিনা আর 'লালসালু'র জমিলা একে অপরের পরিপূরক"—মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ নয়, বরং চরিত্র দুটি একই প্রতিবাদের ধারায় ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিকশিত হলেও একসূত্রে গাঁথা।
'লালসালু' উপন্যাসে জমিলা চরিত্রটি অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও ভণ্ড ধর্মের জাঁতাকলে বন্দি সমাজের বিরুদ্ধে এক প্রতীকী ও স্বভাবজাত প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি। মজিদের তৈরি করা কৃত্রিম ধর্মীয় অনুশাসন ও আধিপত্যকে সে অবচেতনভাবেই অস্বীকার করে। মজিদের সাথে নামাজে অসহযোগিতা, অবাধ্যতা এবং শেষ পর্যন্ত মাজারের ওপর থুতু ছিটিয়ে সে ভণ্ড ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে তার তীব্র ঘৃণা ও বিদ্রোহ প্রকাশ করে। যদিও সে সচেতনভাবে কোনো আন্দোলন গড়ে তোলেনি, তার আচরণেই কুসংস্কারের দেয়াল ভেঙে পড়েছিল।
অন্যদিকে উদ্দীপকের জরিনাও অশিক্ষিত হয়েও অন্ধ কুসংস্কার ও হাশেম মিয়ার ঝাড়ফুঁকের ভণ্ডামিতে বিশ্বাস করে না। সে সাহসী, প্রতিবাদী এবং তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষদের ঝাড়ফুঁকের অসাড়তা ও ক্ষতিকর দিকটি বোঝানোর প্রত্যক্ষ প্রয়াস পায়।
তুলনা করলে দেখা যায়, জমিলা ও জরিনা উভয়েই কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং ভণ্ড প্রতারকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। জমিলা তার অন্তরের অবাধ্যতা ও প্রতীকী আচরণের মাধ্যমে মজিদের ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেয়, আর জরিনা যুক্তিবোধ ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সমাজকে সচেতন করার বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়। জমিলা যেখানে ধর্মের শৃঙ্খলভাঙা এক মৌন বিদ্রোহী রূপ, জরিনা সেখানে সচেতন প্রতিবাদের এক জাগ্রত কণ্ঠস্বর। এভাবে ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচনে ও প্রতিবাদের শক্তিতে তারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও