যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
ফাহিম তার বন্ধু রাতুলকে বললো "কোনো ফুল নয় অসুন্দর।” তা শুনে রাতুল বললো, “প্রত্যেক গোলাপ হয় সুগন্ধী ফুল।" তাদের কথা শুনে মৃদুল বললো, “কিছু গোলাপ হয় লাল।"
- ক)(1)
পদের ব্যাপ্তি কী?
- খ)(2)
বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি ব্যাপ্য হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্যে নির্দেশিত যুক্তিবাক্যের পদের ব্যাপ্যতা দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ফাহিম ও মদলের বক্তব্যে নির্দেশিত যুক্তিবাক্যে ব্যাপ্যতার তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবাক্যে কোনো পদ তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ নিয়ে ব্যবহৃত হওয়া বা না-হওয়ার নিয়মকে পদের ব্যাপ্তি (Distribution of Terms) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশেষ নঞর্থক (O) যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদটি সম্পর্কে বিধেয় পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার বা পৃথক করা হয়, তাই এর বিধেয় পদটি ব্যাপ্য হয়।
একটি নঞর্থক যুক্তিবাক্যের নিয়ম হলো, বিধেয় পদ তার সমুদয় ব্যক্ত্যর্থ নিয়ে উদ্দেশ্য পদ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। 'O' যুক্তিবাক্যে (যেমন— 'কিছু মানুষ নয় সৎ') সৎ শ্রেণির সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ থেকে উদ্দেশ্যের নির্দেশিত অংশটিকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা রাখা হয়। বিধেয় পদটি তার সমগ্র প্রসার নিয়ে অস্বীকৃত হওয়ার কারণে বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ সর্বদা ব্যাপ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্যটি হলো: "প্রত্যেক গোলাপ হয় সুগন্ধী ফুল।"
এটি একটি সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্য। এর যৌক্তিক রূপ: "সকল গোলাপ হয় সুগন্ধী ফুল।"যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী, সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ অব্যাপ্য হয়।
এখানে উদ্দেশ্য পদ 'গোলাপ' সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ নিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ সকল গোলাপ সম্পর্কে কথাটি বলা হয়েছে। তাই উদ্দেশ্য পদ 'গোলাপ' ব্যাপ্য।
অপরদিকে, বিধেয় পদ 'সুগন্ধী ফুল' সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ নিয়ে ব্যবহৃত হয়নি; কারণ সুগন্ধী ফুল শুধু গোলাপ নয়, বেলি বা রজনীগন্ধাও হতে পারে। গোলাপ কেবল সুগন্ধী ফুলের একটি অংশকে নির্দেশ করে। ফলে এর বিধেয় পদ 'সুগন্ধী ফুল' অব্যাপ্য। অতএব, রাতুলের বক্তব্যে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ অব্যাপ্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ফাহিমের বক্তব্য হলো: "কোনো ফুল নয় অসুন্দর" এবং মৃদুলের বক্তব্য হলো: "কিছু গোলাপ হয় লাল।"
ফাহিমের বাক্যটি একটি সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য (E যুক্তিবাক্য)।
মৃদুলের বাক্যটি একটি বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য (I যুক্তিবাক্য)।উভয় বাক্যের পদের ব্যাপ্যতার তুলনা নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. ফাহিমের যুক্তিবাক্য (E বাক্য): "কোনো ফুল নয় অসুন্দর।"
E যুক্তিবাক্যের নিয়ম অনুযায়ী এর উভয় পদই (উদ্দেশ্য ও বিধেয়) ব্যাপ্য। এখানে উদ্দেশ্য পদ 'ফুল'-এর সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে নেওয়া হয়েছে এবং বিধেয় পদ 'অসুন্দর'-এর সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ থেকে উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা বা অস্বীকার করা হয়েছে। অর্থাৎ ফাহিমের বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য।২. মৃদুলের যুক্তিবাক্য (I বাক্য): "কিছু গোলাপ হয় লাল।"
I যুক্তিবাক্যের নিয়ম অনুযায়ী এর কোনো পদই (উদ্দেশ্য বা বিধেয়) ব্যাপ্য নয়, অর্থাৎ উভয় পদই অব্যাপ্য। এখানে উদ্দেশ্য পদ 'গোলাপ'-এর আংশিক ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিধেয় পদ 'লাল'-এরও সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে উদ্দেশ্য পদের ওপর স্বীকার করা হয়নি (কারণ লাল কেবল গোলাপ নয়, অন্য বস্তুও হতে পারে)। ফলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই অব্যাপ্য।অতএব, তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ফাহিমের নির্দেশিত 'E' যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য, পক্ষান্তরে মৃদুলের নির্দেশিত 'I' যুক্তিবাক্যে উভয় পদই অব্যাপ্য। এটি ব্যাপ্যতার সম্পূর্ণ বিপরীত রূপ প্রদর্শন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও