উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. ফারুক ও তার বন্ধু শান্তি পাবনা শহরে ‘সপ্তবর্ণা’ নামে শিশুদের জন্য একটি তৈরি পোশাকের দোকান প্রতিষ্ঠা করেন এবং অর্জিত মুনাফা তারা সমভাগে ভাগ করে নিবেন এই মর্মে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হন। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দ্বারা অল্প সময়ের মধ্যে তারা ব্যবসায়ে ব্যাপক সফলতা লাভে সক্ষম হন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তারা ‘কিডস গার্মেন্টস লি.’ নামে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

  1. ক)

    মূলধন কী?

    (1)
  2. খ)

    “ভূমি আদিম ও অক্ষয়” ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সংগঠনের আওতায় পড়ে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিই দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মূল ভিত্তি” উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের শ্রম দ্বারা উৎপাদিত দ্রব্যের যে অংশ বর্তমানে ভোগ না করে ভবিষ্যৎ অধিক উৎপাদনের কাজে পুনরায় ব্যবহৃত হয়, তাকে মূলধন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভূমি প্রকৃতির একটি আদি ও অকৃত্রিম দান, যা মানুষ নিজে সৃষ্টি করতে পারে না। সৃষ্টির শুরু থেকেই ভূমি পৃথিবীতে বিদ্যমান, তাই একে ‘আদিম’ বলা হয়। অন্যদিকে, ভূমির মূল শক্তি বা অস্তিত্ব কখনোই পুরোপুরি ধ্বংস বা বিনষ্ট করা যায় না। চরম ব্যবহারে জমির উর্বরতা সাময়িকভাবে কমতে পারে, কিন্তু ভূমির ভৌগোলিক অস্তিত্ব চিরকাল বজায় থাকে। তাই ভূমিকে ‘অক্ষয়’ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান ‘সপ্তবর্ণা’ অংশীদারি সংগঠনের আওতায় পড়ে।

    দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির ভিত্তিতে পারস্পরিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনা করে, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। ১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি।

    উদ্দীপকে মি. ফারুক ও তাঁর বন্ধু শান্তি দুজনে মিলে পাবনা শহরে ‘সপ্তবর্ণা’ নামে শিশুদের পোশাকের দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁরা অর্জিত মুনাফা সমভাগে ভাগ করে নেওয়ার শর্তে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক এবং একাধিক ব্যক্তির যৌথ মালিকানা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি একটি অংশীদারি সংগঠন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিই দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মূল ভিত্তি”— উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ব্যবসায়ে বাজারের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার আকার বৃদ্ধি পায়। খুচরা বা সীমিত পরিসরের দোকান দিয়ে যখন বিপুল ক্রেতার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না, তখন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতে বৃহদায়তন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান বা কারখানা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

    উদ্দীপকে মি. ফারুক ও শান্তি প্রাথমিকভাবে ‘সপ্তবর্ণা’ নামে পোশাক বিক্রির একটি দোকান দেন। তাদের দক্ষ পরিচালনায় দ্রুত সুনাম ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের কাপড়ের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়। যখন তারা দেখলেন যে পণ্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাজার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখনই কেবল তারা ‘কিডস গার্মেন্টস লি.’ নামে একটি পোশাক তৈরির কারখানা (গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি) স্থাপনের উদ্যোগ নেন।

    কারখানা স্থাপন বা দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। যদি বাজারে পণ্যের স্থিতিশীল ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা না থাকত, তবে এত বড় বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতো। মূলত ‘সপ্তবর্ণা’র পোশাকের ব্যাপক চাহিদাই তাদের নতুন গার্মেন্টস কারখানা প্রতিষ্ঠা করে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

    অতএব, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হয় যে, পণ্যের বর্ধিত চাহিদাই দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান (কিডস গার্মেন্টস লি.) গড়ে তোলার প্রধান চালিকাশক্তি ও মূল ভিত্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন