ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে মুসলমানদের নিকট তুরস্কের সুলতানের খিলাফতের মর্যাদা ছিল অসীম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষে এবং ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনস্ত মুসলমানেরা তুরস্কের বিপক্ষে যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীতে যোগদানে অস্বীকৃতি জানায়। ব্রিটিশরা ভারতীয় মুসলমানদের আশ্বস্ত করে যে, যুদ্ধে জয়ী হলে তারা তুরস্কের খিলাফতের ক্ষতিসাধন করবে না। কিন্তু প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ব্রিটিশ সরকার তুরস্কের খিলাফত ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে ভারতীয় মুসলমানেরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং তাদের দাবির পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ক)(1)
বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশের নাম কী ছিল?
- খ)(2)
স্বদেশি আন্দোলন কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের কথা স্মরণ করে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনের ফলাফল পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশের নাম ছিল 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' (Eastern Bengal and Assam)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বদেশি আন্দোলন হলো ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একটি ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। এই আন্দোলনের মূল নীতি ছিল ব্রিটিশপণ্য বর্জন (Boycott) করে নিজেদের দেশে তৈরি পণ্য বা দ্রব্যাদি ব্যবহার করা এবং দেশীয় শিল্প-কারখানা ও শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশ ঘটানো। এর রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল বঙ্গভঙ্গ রদ করা এবং স্বায়ত্তশাসন অর্জন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের 'খিলাফত আন্দোলন' (১৯১৯-১৯২৪)-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী তুরস্কের সুলতান ছিলেন সমগ্র মুসলিম বিশ্বের খলিফা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক ব্রিটেনের বিরুদ্ধে অক্ষশক্তির পক্ষে অংশগ্রহণ করে। ভারতীয় মুসলমানরা তুরস্কের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও খিলাফতের মর্যাদা রক্ষার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্রিটেনের পক্ষে যুদ্ধে সাহায্য করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর ১৯২০ সালের সেভর চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশরা তুরস্ককে বিভক্ত করে ফেলে এবং সুলতানের ক্ষমতা কেড়ে নেয়। ফলে ভারতীয় মুসলমানরা মাওলানা শওকত আলী ও মাওলানা মুহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন শুরু করে। উদ্দীপকে তুরস্কের খিলাফত রক্ষা এবং ব্রিটিশদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনের যে প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে, তা খিলাফত আন্দোলনের পটভূমির সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খিলাফত আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলেও ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে এর ফলাফল ও তাৎপর্য ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
প্রথমত, এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে ওঠে। মহাত্মা গান্ধী খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন দেন এবং এর সাথে অসহযোগ আন্দোলন যুক্ত করেন, যা ব্রিটিশ সরকারকে তীব্র চাপের মুখে ফেলে দেয়।
দ্বিতীয়ত, খিলাফত আন্দোলনের ফলে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক সচেতনতা ও ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটে। সমাজের আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসলিম জনগণ প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তবে পরবর্তীতে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুরস্কে খিলাফত বিলুপ্ত হলে আন্দোলনের মূল যৌক্তিকতা হারিয়ে যায়। একই সাথে ভারতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ভেঙে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। তবুও, এই আন্দোলন পরবর্তীকালে ভারতীয় মুসলমানদের নিজস্ব অধিকার ও স্বাতন্ত্র্যবোধকে সুসংহত করতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও