ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
খলিফা আল হাকিম তার রাজ্যের সকল ধর্মাবলম্বীকে একই পতাকাতলে আনার জন্য একটি নতুন ধর্মমতের প্রচলন করেন। কিন্তু সর্বসাধারণের মধ্যে এই ধর্মমত জনপ্রিয় হওয়ায় অনেকেই প্রত্যাখ্যান করেন। তার জীবদ্দশায় কতিপয় ব্যক্তি এই ধর্মমত গ্রহন করলেও তার মৃত্যুর সাথে সাথে এর ইতি ঘটে। তথাপি ইতিহাসে তাকে 'Al Hakim tha Great' নামে অভিহিত করা হয়।
- ক)(1)
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
'মনসবদারি প্রথা' কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে কোন মুঘল শাসকের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত মুঘল শাসকের ধর্মনীতি পর্যালেচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মনসব' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা পদবী। মুঘল সম্রাট আকবর তাঁর সামরিক ও বেসামরিক শাসনব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করার জন্য ১৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে যে পদমর্যাদাভিত্তিক সামরিক প্রথা প্রবর্তন করেন, তাকে 'মনসবদারি প্রথা' বলা হয়।
এই প্রথায় কর্মচারীদের 'মনসবদার' বলা হতো এবং তাঁদের পদমর্যাদা ১০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। মনসবদারদের পদের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সৈন্য, ঘোড়া ও হাতি রাখতে হতো এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সম্রাটের নির্দেশ অনুযায়ী সামরিক সহায়তা দিতে হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত খলিফা আল হাকিমের কর্মকাণ্ডের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের মিল পাওয়া যায়।
মুঘল সম্রাট আকবর ভারতের বিভিন্ন জাতি ও ধর্মাবলম্বী প্রজাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে 'দীন-ই-ইলাহী' নামক একটি সমন্বিত সর্বজনীন ধর্মমতের প্রবর্তন করেন। তবে এই ধর্মমত তৎকালীন রক্ষণশীল মুসলমান ও হিন্দু উভয় সমাজেই প্রত্যাখ্যাত হয়। সম্রাট আকবরের জীবদ্দশায় মাত্র কয়েকজন সভাসদ এই মত গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে এই ধর্মের অবসান ঘটে।
উদ্দীপকের খলিফা আল হাকিমও তাঁর রাজ্যের সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করতে একটি নতুন ধর্মমত চালু করেছিলেন যা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেনি এবং তাঁর মৃত্যুর পর নিঃশেষ হয়ে যায়। আকবরের 'দীন-ই-ইলাহী' প্রবর্তনের এই ঐতিহাসিক সত্যটির সাথেই উদ্দীপকের শাসক ও তাঁর নীতির পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি ছিল পরমতসহিষ্ণুতা, উদারতা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা ইতিহাসে 'সুলহ-ই-কুল' (সবার জন্য শান্তি) নীতি নামে পরিচিত।
আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভারতের মতো বহু-ধর্মীয় দেশে কেবল তলোয়ারের জোরে একটি স্থায়ী সাম্রাজ্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই তিনি রাজপুতসহ অমুসলিমদের মন জয় করতে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তাঁদের উচ্চ রাজপদে নিয়োগ দেন এবং অমুসলিমদের ওপর থেকে বৈষম্যমূলক 'জিজিয়া' ও 'তীর্থকর' প্রত্যাহার করেন। ধর্মীয় সত্য অনুসন্ধানের জন্য তিনি ফতেহপুর সিক্রিতে 'ইবাদতখানা' স্থাপন করেন, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের পন্ডিতদের বিতর্ক শুনে তিনি উপলব্ধি করেন যে সকল ধর্মের মূল সত্য এক।
এরই ধারাবাহিকতায় আকবর ১৫৭৯ সালে 'আমোঘ কর্তৃত্বপত্র' (মাহজারনামা) জারি করে নিজেকে ধর্মের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে 'দীন-ই-ইলাহী' প্রচার করেন। যদিও এই নতুন ধর্মমত জনপ্রিয়তা পায়নি এবং তাঁর মৃত্যুর পর বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবুও আকবরের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রজাদের মধ্যে সম্প্রীতি আনা। তাঁর উদার ধর্মনীতি মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তিকে শতাব্দীর পর শতাব্দী সুদৃঢ় রেখেছিল এবং তাঁকে ইতিহাসে 'আকবর দ্য গ্রেট' হিসেবে অমর করে রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও