‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

রাজশাহীর মেহেরচণ্ডী একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। এ গ্রামে অনেক সম্ভ্রান্ত লোকের বাস। এদের মধ্যে পাঁচটি পরিবার অধিক সম্ভ্রান্ত। গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা এই 'পাঁচ পরিবারের হাতে ছিল। গ্রামের শান্তি রক্ষায় যে কমিটি ছিল তাতে তাদের স্থায়ী পদও রয়েছে। মূলত গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলাবজায় রাখার সাফল্য-ব্যর্থতা অনেকটা তাদের উপর নির্ভর করতো।

  1. ক)

    ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্টের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'Veto' ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়? সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বর্ণনা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন অঙ্গ। সংগঠনকে বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিশ্ব শান্তি রক্ষায় উক্ত সংগঠনের সাফল্য-ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্টের নাম ফ্রিডরিখ এবার্ট (Friedrich Ebert)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Veto' একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ "আমি মানি না" বা "আমি প্রত্যাখ্যান করলাম"। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন)-এর যেকোনো সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবে এককভাবে অসম্মতি জানিয়ে তা বাতিল করে দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতাকে ভেটো ক্ষমতা বলা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের যেকোনো একজন ভেটো দিলে প্রস্তাবটি পাস হতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি পাঠ্যবইয়ে আলোচিত জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান অঙ্গসংগঠন 'নিরাপত্তা পরিষদ' (Security Council)-কে নির্দেশ করে।

    জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর এই দায়িত্ব মূলত নিরাপত্তা পরিষদের ওপর ন্যস্ত। নিরাপত্তা পরিষদে ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীন। উদ্দীপকে যেমন একটি গ্রামের শান্তি রক্ষার ভার পাঁচটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্থায়ী সদস্যপদের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি নিরাপত্তা পরিষদেও এই পাঁচটি পরাশক্তি রাষ্ট্র স্থায়ী পদমর্যাদা এবং বিশেষ ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। বিশ্বশান্তি রক্ষার সার্বিক সাফল্য ও ব্যর্থতা বহুলাংশে এই পাঁচটি পরাশক্তির পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা পর্যালোচনা করলে এর সাফল্য এবং ব্যর্থতা উভয় দিকই স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

    সাফল্যের দিক বিবেচনায়, নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হওয়ার পর বিশ্ব তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হয়নি, যা এর সবচেয়ে বড় অর্জন। এ ছাড়া কোরীয় সংকট (১৯৫০), সুয়েজ খাল সংকট (১৯৫৬), কঙ্গো সংকট এবং উপসাগরীয় যুদ্ধের (১৯৯১) মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে পরিষদ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বহু দেশে নিরস্ত্রীকরণ, নির্বাচন পরিচালনা ও মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের অবদান অনস্বীকার্য।

    অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের বড় ব্যর্থতা হলো এর স্থায়ী পাঁচ সদস্যের 'ভেটো' ক্ষমতার অপব্যবহার। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধের কারণে নিরাপত্তা পরিষদ বহু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকটে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিন সংকট, কাশ্মীর সমস্যা, সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সিরিয়া গৃহযুদ্ধে ভেটোর কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সমালোচকদের মতে এটি কখনো কখনো বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, কিছু সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরাপত্তা পরিষদ একটি অপরিহার্য প্ল্যাটফর্ম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন