ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
মিয়ানমারের স্বৈরশাসক থান শোয়ে ক্ষমতা দখল করে মানুষের বাক স্বাধীনতা খর্ব করেন। তিনি সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেন। সরকারবিরোধী সব পত্রিকা বন্ধ করে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক)(1)
'ফ্যাসিও' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
অক্ষশক্তি কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের থান শোয়ের কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত শাসকের উত্থান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ফ্যাসিও' (Fascio) শব্দের অর্থ হলো শক্তি, ঐক্য বা কাঠের আঁটি/বান্ডিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি, ইতালি এবং জাপান—এই তিনটি প্রধান আগ্রাসী রাষ্ট্র মিলে যে সামরিক ও রাজনৈতিক জোট গঠন করেছিল, তাকে 'অক্ষশক্তি' (Axis Powers) বলা হয়। ১৯৩৬ সালে রোম-বার্লিন অক্ষ এবং পরবর্তীতে ১৯৪০ সালে জার্মানি, ইতালি ও জাপানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই অক্ষশক্তি সুসংহত হয়, যা মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের থান শোয়ের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের ইতালির ফ্যাসিবাদী শাসক বেনিতো মুসোলিনির (কিংবা জার্মানির হিটলারের) স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের মিল রয়েছে। তবে ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্য এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার দিক থেকে মুসোলিনির সাথেই সর্বাধিক সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বৈরশাসক থান শোয়ে ক্ষমতা দখল করে জনগণের বাকস্বাধীনতা হরণ করেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে একদলীয় শাসন কায়েম করেন।
ইতালিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর মুসোলিনিও ঠিক একইভাবে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে গিয়ে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯২৫-২৬ সালের মধ্যে বিরোধী সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেন এবং ফ্যাসিস্ট দল ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক কার্যকলাপ কঠোর হস্তে দমন করেন। অতএব, বিরোধীদের দমন ও একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বৈশিষ্ট্যের কারণে থান শোয়ের সঙ্গে বেনিতো মুসোলিনির সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শাসক বেনিতো মুসোলিনির ক্ষমতা দখল ও স্বৈরাচারী হিসেবে উত্থানের পেছনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতালির চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি বিজয়ী পক্ষে থাকা সত্ত্বেও ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ হয়নি। ফলে ইতালীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। একই সাথে দেশে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং কমিউনিস্টদের ধর্মঘট ও অরাজকতার কারণে সাধারণ মানুষ একটি শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব বোধ করছিল।
এই পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ নিয়ে বেনিতো মুসোলিনি ১৯১৯ সালে 'ফ্যাসিও দি কমবাত্তিমেন্তো' দল গঠন করেন এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রচার শুরু করেন। তাঁর গঠিত আধাসামরিক 'ব্ল্যাক শার্ট' বা কালো কুর্তা বাহিনী দিয়ে তিনি সমাজতন্ত্রী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর সহিংস আক্রমণ চালান। অবশেষে ১৯২২ সালের অক্টোবরে মুসোলিনির নেতৃত্বে ফ্যাসিস্টদের রোম অভিযানের (March on Rome) মুখে দুর্বল রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল তাঁকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
ক্ষমতায় আসার পর মুসোলিনি ধাপে ধাপে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজেকে 'ইল দুচে' (সর্বাধিনায়ক) হিসেবে ঘোষণা করেন এবং উদ্দীপকের মতো গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা ধ্বংস করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও