ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আলী আজম দয়ালু, সদাশয় ও প্রজাবৎসল খলিফা। তিনি চারিত্রিক দিক দিয়ে ছিলেন সরল, অনাড়ম্বর, ধর্মানুরাগী ও কর্তব্যপরায়ণ। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন। কর ব্যবস্থার সংস্কার করে তিনি শিল্প ও ব্যবসা- বাণিজ্যের উন্নতি সাধন করেন। তিনি ভিন্ন মতাবলম্বীদের শাসনকার্বে নিয়োগ করে এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তার বৈদেশিক নীতি ছিল। শান্তি-শৃঙ্খলা ও সংহতি বিধান।
- ক)(1)
উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
খলিফা সুলায়মানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন উমাইয়া খলিফার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উত্ত খলিফার বৈদেশিক নীতি পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা.)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা সুলায়মান বিন আবদুল মালিক তাঁর মৃত্যুর পূর্বে কোনো পুত্রকে উত্তরাধিকারী মনোনীত না করে খোদাভীরু ও ন্যায়পরায়ণ উমর বিন আবদুল আজিজকে পরবর্তী খলিফা মনোনীত করার অসিয়ত করে যান। তাঁর এই দূরদর্শী ও কল্যাণকর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উমাইয়া খেলাফত একজন আদর্শ শাসকের হাতে ন্যস্ত হয়, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রভূত কল্যাণ বয়ে আনে। এ কারণেই ঐতিহাসিকগণ সুলায়মানকে 'আশীর্বাদের চাবি' বা 'মিফতাহুল খাইর' বলে অভিহিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মহান উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় উমর হিসেবে খ্যাত 'উমর বিন আবদুল আজিজ'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজ ছিলেন চরম সৎ, অনাড়ম্বর, প্রজাবৎসল এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের পঞ্চম খলিফা হিসেবে সমাদৃত। তিনি পূর্ববর্তী উমাইয়া শাসকদের রাজকীয় বিলাসিতা বর্জন করে রাসুল (সা.) ও খুলাফায়ে রাশেদিনের সরল জীবনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনেন। তিনি অনৈসলামিক কর ব্যবস্থা বাতিল করেন, নবমুসলিমদের ওপর থেকে জিজিয়া প্রত্যাহার করেন এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।
উদ্দীপকে জনাব আলী আজমের চারিত্রিক সরলতা, ধর্মানুরাগ, খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শের অনুসরণ, ভিন্ন মতাবলম্বীদের (যেমন—শিয়া ও খারিজিদের প্রতি সহনশীলতা) প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর ব্যবস্থার সংস্কারের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজের শাসনকাল ও বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজের বৈদেশিক নীতি ছিল মূলত আক্রমণাত্মক বিস্তার নীতির পরিবর্তে শান্তি, ধর্মীয় সংহতি ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।
উমাইয়া শাসনামলে সাম্রাজ্য বিস্তারের যে সামরিক অভিযান চলছিল, উমর বিন আবদুল আজিজ ক্ষমতায় এসে তা স্থগিত করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে তরবারির জোরে সাম্রাজ্য বাড়ানোর চেয়ে অধিকৃত অঞ্চলের প্রজাদের সন্তুষ্টি এবং ইসলামের মহান আদর্শ তুলে ধরাই শ্রেষ্ঠ নীতি। ফলে তিনি কনস্টান্টিনোপলসহ বিভিন্ন রণাঙ্গন থেকে মুসলিম সৈন্য প্রত্যাহার করে রক্তপাত বন্ধ করেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিবেশী রাজ্য ও রাজন্যবর্গের কাছে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াতনামা পাঠান এবং তাঁর আদর্শিক প্রভাবে বহু অমুসলিম স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিদ্রোহী দল—যেমন খারিজি ও শিয়াদের সাথে সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'জনাব আলী আজমের বৈদেশিক নীতি ছিল শান্তি-শৃঙ্খলা ও সংহতি বিধান'—এই বৈশিষ্ট্যটি খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজের বৈদেশিক দর্শনেরই প্রতিফলন। তাঁর এই মানবতাবাদী ও শান্তিপ্রিয় নীতি তৎকালীন মুসলিম বিশ্বে স্থিতিশীলতা নিয়ে এসেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও