ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আলভী গার্মেন্টস এর কর্ণধার কাদের চৌধুরী তার অথীনে কর্মচারীদের নিয়োগ বিধি মোতাবেক প্রাপ্য মজুরি বোনাস, ম্যাম্যসম্মত পরিবেশ ইত্যাদি সুবিসা বসা প্রদানে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করে আসছিল এতে বিষ্ণুপ কর্মচারীর একত্রিত হয়ে দাবি আদায়ে শ্রমিক সংঘ গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে চরে আন্দোলনের চাপে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলেও পরবা বিবর্তী দিভিন্ন অজুহাত ও কৌশালে মালিক তাদের ঐক্য ভেঙে দেয় এবং কঠোর সিসান্তদের মাধ্যমে একজর কর্তৃত্ব স্থাপন করে।
- ক)(1)
লাহোর প্রস্তাব'-এর উত্থাপক কে?
- খ)(2)
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কেন ঘটেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শ্রমিক সংঘ গড়ে তোলার সাথে ঘ যুক্তফ্রন্ট গঠনের কী সাদৃশ্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, শ্রমিক সং সংঘের আন্দোলনের পরিণতির মতোই যুক্তফ্রন্টের পরিণতিও একই হয়েছিল? উত্তরে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লাহোর প্রস্তাব'-এর উত্থাপক হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে) বাংলায় সংঘটিত ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এর প্রধান কারণ ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রবর্তিত দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা, মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের নীতি এবং ক্রমাগত অনাবৃষ্টির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। অনাবৃষ্টিতে খরা দেখা দিলেও কোম্পানি অতিরিক্ত কর আদায় অব্যাহত রাখে এবং ইংরেজ বণিকরা খাদ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুতদারি শুরু করে, যার ফলে বাংলায় মারাত্মক এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শ্রমিক সংঘ গড়ে তোলার পটভূমির সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনের তীব্র সাদৃশ্য রয়েছে।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শোষণ এবং অধিকারবঞ্চিত করে রেখেছিল। এই অন্যায় ও শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের আধিপত্য ও অপশাসনের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো (যেমন আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি) ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৫৩ সালের শেষের দিকে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, গার্মেন্টস মালিকের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, প্রাপ্য মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ার কারণে কর্মচারীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে একত্রিত হয়ে একটি শ্রমিক সংঘ গড়ে তোলে। উদ্দীপকের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ সংঘ গঠনের উদ্দেশ্য যেমন ছিল মালিকপক্ষের শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তেমনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস হিসেবে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। ফলে উভয় ক্ষেত্রেই শোষিত পক্ষের অধিকার আদায়ে জোটবদ্ধ হওয়ার স্পষ্ট সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি শ্রমিক সংঘের আন্দোলনের পরিণতির মতোই যুক্তফ্রন্টের পরিণতিও প্রায় একই হয়েছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আন্দোলনের তীব্র চাপে তাৎক্ষণিকভাবে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, অজুহাত এবং অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে মালিক তাদের ঐক্য ভেঙে দেয় এবং পুনরায় একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে এবং সরকার গঠন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও কায়েমী স্বার্থবাদী মহল বাঙালির এই বিজয়কে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। তারা ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং আদমজী জুট মিল ও কর্ণফুলী কাগজ কলে বাঙালি ও অবাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে দাঙ্গা উসকে দেয়। এই দাঙ্গা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অজুহাত তুলে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় ১৯৫৪ সালের ৩০ মে ৯২(ক) ধারা জারি করে বরখাস্ত করা হয়। একই সাথে যুক্তফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ কোন্দল উসকে দিয়ে তাদের ভাঙন ত্বরান্বিত করা হয় এবং পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রীয় স্বৈরশাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের শ্রমিকদের ঐক্য যেমন কূটকৌশল ও অজুহাত দেখিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং মালিকের একক কর্তৃত্ব ফিরে এসেছিল, তেমনি যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পরও পাকিস্তানি চক্রান্তে তাদের সরকারকে ভেঙে দেওয়া হয় এবং পূর্ব বাংলার ওপর পুনরায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বলা যায়, উভয়ের পরিণতি একই রকম ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও