ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
চাকলা রোশনাবাদ পরগনার রাজা মানিক্য বাহাদুর শাসন পরিচালনায় নানাবিধ অসুবিধায় সম্মুখীন হন। সমতলে সাধারণ বাঙালি, কৃষক, প্রজা, পাহাড়ি ত্রিপুরাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র উপজাতি প্রজার বসবাস। একদিকে হিন্দু, মুসলিম ও পাহাড়িদের ধর্মীয় বিরোধ, অন্যদিকে স্বাধীনতাকামী প্রজার জমিদারি প্রথা বিরোধী হিংসাত্মক আন্দোলন তাকে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলে। জমিদারবিরোধী আন্দোলন প্রশমনের জন্য তিনি কৌশলে প্রজাদের ধর্মীয় বিরোধে প্রণোদনা দেন। এতে ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রকট হলে, তিনি পরগনাকে দুইভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। একদল মানুষ তার পরগনা বিভক্তিকে সমর্থন করলেও আরেক দল এর তীব্র প্রতিবাদ করে। পরিশেষে তিনি পরগনা ভাগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
- ক)(1)
মুসলিম লীগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি কেন গঠন করা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গৃহীত কোন প্রশাসনিক পদক্ষেপের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকের মতো ব্রিটিশ সরকারের উক্ত পদক্ষেপের প্রতিও জনগণের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৬৩ সালে নবাব আব্দুল লতিফ কর্তৃক কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজি শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতি তৎকালীন অনীহাগ্রস্ত বাঙালি মুসলমানদের আগ্রহী করে তোলা এবং ব্রিটিশ সরকারের সাথে মুসলিম সম্প্রদায়ের দূরত্ব দূর করে তাদের সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গৃহীত ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' (বাংলা বিভাজন) পদক্ষেপের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
ব্রিটিশ শাসনামলে বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সি শাসন করা প্রশাসনিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছিল। লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে ১৯০৫ সালে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠন করেন। তবে এর নেপথ্যে ব্রিটিশদের মূল কূটকৌশল ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমন করা এবং হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে 'বিভাজন ও শাসন' (Divide and Rule) নীতি কার্যকর করা।
উদ্দীপকের মানিক্য বাহাদুরও নানা প্রশাসনিক জটিলতা এবং জমিদারিবিরোধী আন্দোলন প্রশমিত করার জন্য প্রজাদের মধ্যে বিভেদ উসকে দেন এবং পরগনা দুই ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন, যা পরবর্তীতে প্রতিবাদের মুখে প্রত্যাহার করা হয়। এই বিষয়টি অবিকল লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনার সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মতো ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গ পদক্ষেপের প্রতিও ভারতের জনগণের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত মিশ্র ও মেরুকৃত—বক্তব্যটি সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার পর পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার দুই প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়:
১. মুসলমানদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া: পূর্ব বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ, বিশেষ করে নবাব সলিমুল্লাহর মতো নেতৃবৃন্দ বঙ্গভঙ্গকে অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে স্বাগত জানান। তারা ঢাকাকে নতুন রাজধানী হিসেবে পেয়ে শিক্ষা, চাকরি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে দেখেন।
২. হিন্দুদের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ: অন্যদিকে, পশ্চিম বাংলার উচ্চবর্ণের হিন্দু, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী নেতারা বঙ্গভঙ্গকে 'মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ' হিসেবে গণ্য করেন। তাদের মতে, এটি ছিল ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য ব্রিটিশদের একটি চক্রান্ত। ফলে তাঁরা এর বিরুদ্ধে প্রবল স্বদেশী আন্দোলন, বয়কট আন্দোলন এবং উগ্র বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
৩. প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক রূপান্তর: তীব্র প্রতিবাদের মুখে ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করলে হিন্দুরা আনন্দিত হলেও মুসলমানরা প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত ও ব্রিটিশদের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে।অতএব, দেখা যায় যে উদ্দীপকের পরগনা বিভাজনের মতোই ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের পদক্ষেপও একদিকে মুসলমানদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছিল, অন্যদিকে হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতার জন্ম দিয়েছিল, যা প্রমাণ করে প্রতিক্রিয়াটি ছিল একেবারেই মিশ্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও