‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। উভয় রাষ্ট্রই আগ্রাসি কর্মকাণ্ড চালায়। দুটি রাষ্ট্রই একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিকার চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা প্রশংসনীয়।

  1. ক)

    উড্রো উইলসন কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাজ লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান কোনটি? পরিচয় দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রতিষ্ঠানের সফলতা কতটুকু? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উড্রো উইলসন ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম রাষ্ট্রপতি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর শান্তির উদ্যোগ ‘চোদ্দ দফা’ ও ‘লীগ অব নেশনস’ (জাতিসংঘ)-এর অন্যতম প্রধান রূপকার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ হলো বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গ। এর প্রধান কাজগুলো হলো—
    ১. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা।
    ২. আক্রমণাত্মক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ ও প্রয়োজনে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ বা নির্দেশ প্রদান করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'জাতিসংঘ' (United Nations Organization - UNO)।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞ ও ব্যাপক প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে এবং বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।

    জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, বিভিন্ন জাতির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যার সমাধানে যৌথ সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। উদ্দীপকে দুটি আক্রমণাত্মক রাষ্ট্রের বিবাদ নিষ্পত্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যে আন্তর্জাতিক বৃহৎ সংস্থার কথা বলা হয়েছে, তা বিশ্বশান্তির ধারক হিসেবে জাতিসংঘের কার্যক্রমের সাথেই সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে জাতিসংঘের ভূমিকা মিশ্র হলেও সার্বিকভাবে এর অবদান ও সফলতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

    জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকে তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হতে দেয়নি, যা এর সবচেয়ে বড় কৌশলগত সাফল্য। এছাড়া এর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো হলো:
    ১. যুদ্ধবিরতি ও শান্তি রক্ষা: সুয়েজ খাল সংকট, সাইপ্রাস বিরোধ, কম্বোডিয়া সংকট, কঙ্গো সংকটসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বহু অঞ্চলে শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে জাতিসংঘ সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করেছে।
    ২. উপনিবেশমুক্তি ও মানবাধিকার: বিশ্বের বহু দেশকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতা লাভে এবং সর্বজনীন মানবাধিকার সনদের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
    ৩. মানবিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড: ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, ডব্লিউএইচও এবং ইউএনএইচসিআরের মতো সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ক্ষুধা নিবারণ, শিক্ষা বিস্তার, মহামারি মোকাবিলা ও শরণার্থী পুনর্বাসনে এটি অতুলনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।

    তবে পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্যালেস্টাইন ও কাশ্মীর সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

    পরিশেষে বলা যায়, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতিসংঘের সামগ্রিক সফলতা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন