‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় ঘটে। বিভিন্ন দল নিষিদ্ধ হয়। বিচার করা হয় বহু ব্যক্তির। বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বিকশিত হয়।

  1. ক)

    NATO-এর পূর্ণরূপ লেখো।

    (1)
  2. খ)

    প্যারিস শান্তি চুক্তি কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্যসমূহ। ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ফলাফল কি গণতন্ত্রমুখী? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    NATO-এর পূর্ণরূপ হলো North Atlantic Treaty Organization.

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্যারিস শান্তি চুক্তি বা সম্মেলন হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর ১৯১৯ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে বিজয়ী মিত্রশক্তি কর্তৃক আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন। এ সম্মেলনের মাধ্যমেই জার্মানির ওপর শর্ত চাপিয়ে ঐতিহাসিক ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরাজিত কেন্দ্রীয় শক্তির অন্যান্য দেশগুলোর সাথেও বিভিন্ন চুক্তি সম্পন্ন করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরি করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ও অক্ষশক্তির পরাজয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি, ইতালি ও জাপানের সমন্বয়ে গঠিত অক্ষশক্তির চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। উদ্দীপকের 'ক' দেশ ও মিত্রদের পরাজয়ের অনুরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও ফ্যাসিবাদী ও নাৎসি দলসহ যুদ্ধাপরাধী দলসমূহকে নিষিদ্ধ করা হয়। জার্মানির নুরেমবার্গ ও জাপানের টোকিওতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয় এবং শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। উদ্দীপকে যেমন বহু ব্যক্তির বিচার এবং গণতন্ত্রের বিকাশের কথা উল্লেখ রয়েছে, তেমনই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের জোয়ার আসে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল সামগ্রিকভাবে নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রমুখী ছিল। নিচে এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলো:

    ১. একনায়কতন্ত্রের অবসান: যুদ্ধে হিটলারের নাৎসিবাদ ও মুসোলিনির ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে, যা মানবজাতির জন্য কর্তৃত্ববাদী শাসনের বড় হুমকি দূর করে।
    ২. পরাজিত দেশগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: জার্মানি, ইতালি এবং জাপানে যুদ্ধের পর মিত্রশক্তির সহায়তায় গণতান্ত্রিক সংবিধান ও সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়।
    ৩. উপনিবেশবাদের অবসান ও জাতীয় স্বাধীনতা: যুদ্ধের ফলে ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশ (যেমন ভারত, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি) ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জন করে।
    ৪. মানবাধিকার ও জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা: যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার রক্ষার লক্ষ্যে জাতিসংঘ গঠিত হয় এবং ১৯৪৮ সালে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।

    সুতরাং, যদিও যুদ্ধপরবর্তী বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধের ফলে সমাজতন্ত্রের প্রসারও ঘটেছিল, তবুও সার্বিক বিশ্লেষণে এই ফলাফল ছিল একনায়কতন্ত্রের বিপরীতে গণতন্ত্র ও মুক্তচিন্তার চূড়ান্ত বিজয়ের স্মারক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন