ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
‘নাহার' নামক একটি কারখানায় শ্রমিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। ফলে শ্রমিকরা শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হয়।
- ক)(1)
লেনিন কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দু'টি কারণ সংক্ষেপে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পরিবর্তন কি রুশ বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত পরিবর্তন রাশিয়ায় কি ধরনের প্রভাব ফেলেছিল বলে তুমি মনে কর? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন রাশিয়ায় (তৎকালীন রুশ সাম্রাজ্যের সিমবির্স্ক শহরে) জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দুটি সংক্ষেপিত কারণ হলো:
১. সাম্রাজ্যবাদী উপনিবেশ বিস্তার: শিল্প বিপ্লবের পর কাঁচামাল সংগ্রহ এবং শিল্পপণ্যের বাজার দখল নিয়ে ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র ঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
২. সামরিক জোট গঠন: ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো পরস্পরবিরোধী দুটি জোটে (ত্রিশক্তি মৈত্রী ও ত্রিশক্তি আঁতাত) বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে কারখানায় সংঘটিত পরিবর্তনের বিষয়টি ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের (বলশেভিক বিপ্লব) সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রুশ বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ায় জারের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন এবং বুর্জোয়া পুঁজিপতিদের চরম শোষণ বিদ্যমান ছিল। শ্রমিক-কৃষকরা অমানবিক পরিবেশে স্বল্প মজুরিতে কাজ করত এবং তাদের মৌলিক ও শিক্ষার অধিকার ছিল না। ১৯১৭ সালে ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হলে শ্রমিক-কৃষকদের হাতে ক্ষমতা অর্পিত হয়। কল-কারখানা ও ভূমির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে শ্রমজীবী মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নত জীবনের সুযোগ লাভ করে এবং সমাজে বিরাজমান ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীভূত হয়।
উদ্দীপকের ‘নাহার’ কারখানাতেও শ্রমিক বিপ্লবের পর শ্রমিকদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি, পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হওয়ার চিত্র দেখা যায়, যা অবিকল রুশ বিপ্লবোত্তর সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রমিক বিপ্লবের রূপান্তর রাশিয়ায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী এবং যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছিল।
রাশিয়ায় এই বিপ্লবের মূল প্রভাবগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জারতন্ত্র ও শোষণের অবসান: বিপ্লবের মাধ্যমে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা রোমানভ বংশের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে এবং মেহনতি মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. অর্থনৈতিক রূপান্তর: ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও উৎপাদনের উপায়ের উপর পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রণ বাতিল করে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করা হয়। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে রাশিয়া একটি অনগ্রসর কৃষিপ্রধান দেশ থেকে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে পরাক্রমশালী শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
৩. সামাজিক সমতা ও শিক্ষার প্রসার: অভিজাত ও সাধারণের বৈষম্য দূর করে শ্রেণিহীন সমাজ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নারী ও শ্রমিকদের শিক্ষার অধিকার, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও বাসস্থান নিশ্চিত করা হয়, ফলে নিরক্ষরতা দূর হয়ে সমাজে সার্বিক অগ্রগতি আসে।
৪. বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব: সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম হয়, যা পরবর্তীতে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি অন্যতম পরাশক্তি বা সুপারপাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়।সুতরাং বলা যায়, এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন রাশিয়ার পিছিয়ে পড়া অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে অধিকারসচেতন করে দেশটির সার্বিক চেহারা বদলে দিয়েছিল এবং আধুনিক সোভিয়েত রাশিয়া গঠনে ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও