ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

কমলাপুর গ্রামের মানুষ পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের। উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদেরকে আক্রমণ করলে যুদ্ধে কমলাপুর গ্রাম। পরাজিত হয় এবং তাদের নেতা নিহত হন। এ পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলা এবং নেতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কমলাপুরবাসী আবারো ইসলামপুর গ্রাম আক্রমণ করে। ইসলামপুর গ্রামের চেয়ারম্যান। ইবনে আব্দুল্লাহ ৫০ জন তীরুন্দাজকে নির্দেশ দেন, 'আমরা সবাই যুদ্ধে মারা গেলেও তোমরা এখান থেকে সরবে না।' কিন্তু নেতার আদেশ অমান্য করার জন্য ইসলামপুরবাসী এ যুদ্ধে পরাজিত হয়।

  1. ক)

    আসাদুল্লাহ অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    জিজিয়া কোন ধরনের কর? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনা তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'নেতার আদেশ অমান্য করা উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের অন্যতম কারণ'- উক্তিটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আসাদুল্লাহ' শব্দের অর্থ হলো 'আল্লাহর সিংহ'। এটি ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর উপাধি ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জিজিয়া হলো ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের (জিম্মি) জান-মাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিরাপত্তা এবং সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে ধার্যকৃত এক ধরনের নিরাপত্তা কর। এ কর শুধু সক্ষম অমুসলিম পুরুষদের ওপর ধার্য হতো। নারী, শিশু, বৃদ্ধ, সন্ন্যাসী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জিজিয়া কর থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসের ওহুদের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করে।

    ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বদরের যুদ্ধে কুরাইশরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং তাদের নেতা আবু জাহেলসহ বহু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি নিহত হয়। এই পরাজয়ের প্রতিশোধ এবং হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে কুরাইশরা ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে মদিনা আক্রমণ করে, যা ওহুদের যুদ্ধ নামে পরিচিত। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসলামপুরের বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধে কমলাপুর পরাজিত হয়ে নেতাকে হারায় এবং প্রতিশোধ নিতে পুনরায় আক্রমণ করে।

    তদুপরি, ওহুদের যুদ্ধে মহানবী (সা.) ৫০ জন তীরন্দাজকে ওহুদ পাহাড়ের গিরিপথে যেকোনো পরিস্থিতিতে অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রাথমিক বিজয়ের পর গনিমতের মালের লোভে তীরন্দাজরা নির্দেশ অমান্য করে স্থান ত্যাগ করায় মুসলিম বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। উদ্দীপকেও ইসলামপুরের চেয়ারম্যানের ৫০ জন তীরন্দাজকে দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করার কারণে পরাজয় ঘটে। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবে ওহুদের যুদ্ধকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'নেতার আদেশ অমান্য করা উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের অন্যতম কারণ'- উক্তিটি ওহুদের যুদ্ধের বাস্তবতার নিরিখে যথার্থ ও সত্য।

    ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত ওহুদের যুদ্ধে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজের একটি দলকে ওহুদ পর্বতের গিরিপথে মোতায়েন করেছিলেন। তিনি কঠোরভাবে নির্দেশ দেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি যাই হোক না কেন—মুসলিমদের বিজয় হোক কিংবা পরাজয়—তাঁর নির্দেশ ছাড়া তারা যেন কোনোভাবেই সেই স্থান ত্যাগ না করে।

    যুদ্ধের প্রথমার্ধে মুসলিম বাহিনী অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করে এবং কুরাইশরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ময়দান ত্যাগ করতে শুরু করে। এই আপাত বিজয় দেখে গিরিপথের তীরন্দাজদের অধিকাংশ নেতার আদেশ ভুলে গনিমতের মাল সংগ্রহের জন্য পাহাড় থেকে নেমে আসেন। মাত্র কয়েকজন ছাড়া বাকিরা অবস্থান ত্যাগ করার সুযোগে কুরাইশদের বিচক্ষণ অশ্বারোহী সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ পিছন দিক থেকে অতর্কিতে মুসলিম বাহিনীকে আক্রমণ করেন। এর ফলে নিশ্চিত বিজয় এক চরম বিপর্যয়ে পরিণত হয় এবং স্বয়ং মহানবী (সা.) আহত হন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, চেয়ারম্যান ইবনে আব্দুল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে ৫০ জন তীরন্দাজ নির্দিষ্ট স্থান ত্যাগ করার ফলেই ইসলামপুরবাসী পরাজিত হয়। সুতরাং, ইতিহাস ও উদ্দীপক উভয় প্রেক্ষাপটেই প্রমাণিত হয় যে, নেতার নির্দেশ অমান্য করাই ছিল ওহুদের যুদ্ধের এই সাময়িক বিপর্যয় ও পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন