ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
চীন ও তিব্বতের মধ্যবর্তী একটি স্থানের নাম মঙ্গোলীয়া। এই স্থানেই বিখ্যাত এক বীরের জন্ম হয়। মধ্য এশিয়ার ইতিহাসে অনন্যসাধারণ প্রতিভাসম্পূর্ণ এই মঙ্গোলিয়ান বীর হালাকু খানের নাম সর্বাগ্রে। তিনি তার পিতা টুলি খানের কাছ থেকে ১২৫৬ খ্রিষ্টাব্দে উক্ত অঞ্চলের শাসন ক্ষমতা লাভ করেন এবং ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বাগদানে অভিযান পরিচালনা করে তা ধ্বংস করেন। পরবর্তীতে সেখানে তিনি একটি নতুন এবং স্থায়ী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তার প্রতিষ্ঠিত রাজবংশের নামকরণ করা হয় ইলখানী রাজবংশ।
- ক)(1)
'জাহান সুজ' কার উপাধি?
- খ)(2)
সতীদাহ প্রথা কী? ব্যাখ্যা।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মঙ্গোলিয়ান বীর হালাকু খানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বীরের/শাসকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
তোমার পঠিত উক্ত বীর/শাসক কর্তৃক ভারতে একটি স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বিবরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘোর বংশের শাসক আলাউদ্দিন হুসাইনের উপাধি ছিল 'জাহান সুজ' (যার অর্থ 'জগৎ দাহক')।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সতীদাহ প্রথা ছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় হিন্দু সমাজের একটি অমানবিক সামাজিক ও ধর্মীয় প্রথা। এ প্রথা অনুসারে স্বামীর মৃত্যুর পর তার চিতায় জীবিত বিধবা স্ত্রীকে আত্মাহুতি দিতে বা পুড়িয়ে মারতে বাধ্য করা হতো। সমাজে এটিকে ধর্মীয় কর্তব্য ও সতীর লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরবর্তীতে ১৯শ শতকে রাজা রামমোহন রায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালে আইন করে এই নিষ্ঠুর প্রথা নিষিদ্ধ করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মঙ্গোলিয়ান বীর হালাকু খানের সাথে মধ্য এশিয়ার অপর এক দিগ্বিজয়ী বীর জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সাদৃশ্য ও ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত হালাকু খান যেমন মধ্য এশিয়া থেকে এসে নতুন এক স্থায়ী সাম্রাজ্য (ইলখানী রাজবংশ) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তেমনি বাবরও ছিলেন মধ্য এশিয়ার ফারগানা রাজ্যের অধিপতি এবং রক্তসূত্রে তিনি পিতা ওমর শেখ মির্জার দিক থেকে তৈমুর লং এবং মাতা কুতলুগ নিগার খানমের দিক থেকে মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন। মধ্য এশিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও রাজ্য হারানোর পর তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দিকে দৃষ্টি দেন।
১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। উদ্দীপকে হালাকু খানের সামরিক দক্ষতা এবং স্থায়ী রাজবংশ প্রতিষ্ঠার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ঐতিহাসিক পটভূমিতে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যবইয়ের উক্ত বীর বা শাসক হলেন জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। ভারতে তাঁর স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য (মুঘল সাম্রাজ্য) প্রতিষ্ঠার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬ খ্রি.): ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২১ এপ্রিল পানিপথের ঐতিহাসিক প্রান্তরে বাবর দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদির বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করেন। বাবরের উন্নত সমরকৌশল (রুমী কৌশল) ও কামানের ব্যবহারের ফলে লোদি বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয় এবং ভারতে লোদি বংশ তথা দিল্লি সালতানাতের পতন ঘটে। বাবর দিল্লি ও আগ্রা অধিকার করেন।
২. খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭ খ্রি.): ভারতে স্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করতে বাবরকে রাজপুত শক্তির মুখোমুখি হতে হয়। মেওয়ারের বীর রানা সংগ্রাম সিংহের নেতৃত্বে রাজপুত কনফেডারেসিকে বাবর ১৫২৭ খ্রিষ্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে পরাজিত করেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে বাবরের ভারতে থাকার পথ সুগম হয় এবং তিনি 'গাজী' উপাধি গ্রহণ করেন।
৩. চান্দেরী দুর্গ জয় (১৫২৮ খ্রি.): রাজপুতদের অবশিষ্ট শক্তি দমন করতে বাবর ১৫২৮ খ্রিষ্টাব্দে মেদিনী রায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং চান্দেরী দুর্গ অধিকার করেন।
৪. ঘর্ঘরার যুদ্ধ (১৫২৯ খ্রি.): ১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দে বিহার ও বাংলার আফগান শক্তিকে ঘর্ঘরার যুদ্ধে পরাজিত করে বাবর উত্তর ভারতে তাঁর সাম্রাজ্যকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও সুসংহত করেন।
পরপর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাবর পাঞ্জাব থেকে বিহার এবং হিমালয় থেকে গোয়ালিয়র পর্যন্ত এক সুবিশাল ও স্থায়ী মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও