বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে মামুন চাকরির চিন্তা বাদ রেখে এক মহৎ স্বপ্নের তাড়নায় গ্রামে ফিরে আসে। অনেক চেষ্টা ও শ্রমের ফলে সে গ্রামে সরকার অনুমোদিত একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। গ্রামের চেয়ারম্যান ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের সহায়তায় এগিয়ে চলে মামুনের স্বপ্নের বিদ্যালয়টি। মামুন এখন গ্রামের মানুষের কাছে এক অনুকরণীয় সম্মানিত ব্যক্তি।
- ক)(1)
‘কলমা জানো মিঞা?”- মজিদ কাকে এ প্রশ্নটি করেছে?
- খ)(2)
‘সজ্ঞানে না জানলেও তার একাট্টা, পথ তাদের এক।”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চেয়ারম্যান ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের ভূমিকা ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন ঘটনাংশের সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের মামুন চরিত্রটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের অপূর্ণ একটি সম্ভাবনার বাস্তব প্রতিফলন।”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘কলমা জানো মিঞা?’— মজিদ এই প্রশ্নটি দুদু মিয়াকে করেছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটির মাধ্যমে মজিদ এবং তার প্রতিপক্ষ অন্যান্য ভণ্ড পীর-ফকিরদের শোষণের কৌশলগত ঐক্যকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে আওয়ালপুরের পীরের প্রভাব দেখে মজিদ নিজের আধিপত্য হারানোর আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তবে তারা প্রত্যেকেই সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও অজ্ঞতাকে পুঁজি করে শোষণ ও কর্তৃত্ব বজায় রাখে। সচেতনভাবে তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করলেও তাদের শোষণমূলক লক্ষ্য ও অবলম্বন করা ভণ্ডামির পথ মূলত অভিন্ন—এ সত্যটিই উক্ত চরণে প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চেয়ারম্যান ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের ইতিবাচক ভূমিকা ‘লালসালু’ উপন্যাসের মাতব্বর খালেক ব্যাপারী ও মোদাব্বের মিঞাদের নেতিবাচক ভূমিকার সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
‘লালসালু’ উপন্যাসে গ্রামের শিক্ষিত যুবক আক্কাস যখন মহব্বতনগর গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন সমাজের মোড়ল ও বয়োজ্যেষ্ঠরা তার সেই আধুনিক ও কল্যাণকর চিন্তাকে সমর্থন করেনি। বরং ভণ্ড মজিদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে খালেক ব্যাপারী ও অন্যান্য মুরুব্বিরা আক্কাসকে দাড়ি রাখা ও ধর্মীয় অনুশাসনের নামে অপমান করে তার স্কুলের স্বপ্ন নস্যাৎ করে দেয়।
পক্ষান্তরে উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করেন এবং তার পাশে দাঁড়ান। যেখানে 'লালসালু'র মোড়লরা ছিল আধুনিক শিক্ষার পথে বাধা, সেখানে উদ্দীপকের মুরুব্বিরা শিক্ষার আলো ছড়ানোর সহযোগী। তাই উদ্দীপকের ঘটনাংশটি উপন্যাসের সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের মামুন চরিত্রটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের অপূর্ণ একটি সম্ভাবনার বাস্তব প্রতিফলন”— মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
‘লালসালু’ উপন্যাসে শহর থেকে পড়াশোনা করে আসা যুবক আক্কাস চেয়েছিল গ্রামের পশ্চাৎপদ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও নিরক্ষর সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে। সে জন্য সে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল, যা ছিল মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। কিন্তু অন্ধ কুসংস্কার এবং মজিদের স্বার্থপর ধর্মীয় প্রভাবের কারণে গ্রাম্য মোড়লদের বিরোধিতায় আক্কাসের সেই উদ্যোগ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়; আক্কাসকে গ্রাম ছাড়তে হয় এবং সম্ভাবনাময় প্রচেষ্টাটি অপূর্ণই থেকে যায়।
উদ্দীপকের মামুনও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্রত গ্রহণ করে। তবে আক্কাসের উদ্যোগটি প্রতিকূলতার মুখে ব্যর্থ হলেও মামুনের ক্ষেত্রে সমাজপতি ও মুরুব্বিদের সহায়তা লাভ করায় তা বাস্তবে সফল হয়। মামুন গ্রামে সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে মানুষের সম্মান অর্জন করে।
অর্থাৎ ‘লালসালু’ উপন্যাসে আক্কাসের মাধ্যমে যে শুভ সূচনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েও ভণ্ডামির কাছে পরাজিত হয়েছিল, উদ্দীপকের মামুন চরিত্রটি সেই অপূর্ণ স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দান করেছে। সুতরাং উক্তিটি সার্বিকভাবে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও