ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতাকে একটি শিল্পের নামে নামকরণ। করা হয়। উক্ত শিল্পজাত পণ্য ব্যতীত অন্য শিল্প স্থাপনের কথা চিন্তাও করা যায় না।
- ক)(1)
প্রধান আখ উৎপাদনকারী দেশের নাম উল্লেখ করো ।
- খ)(2)
বাংলাদেশের চিনিকল উত্তরবঙ্গে বেশি— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্প গড়ে উঠার ভৌগোলিক নিয়ামক ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটির ব্যবহারিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বের প্রধান আখ উৎপাদনকারী দেশ হলো ব্রাজিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে চিনিকল বেশি গড়ে ওঠার মূল কারণ হলো কাঁচামাল আখের সহজলভ্যতা এবং অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ। চিনি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল আখ একটি দ্রুত পচনশীল ও ওজন হ্রাসকারী পণ্য; কাটার অল্প সময়ের মধ্যেই এটি মাড়াই না করলে সুক্রোজ বা চিনির পরিমাণ হ্রাস পায়। উত্তরবঙ্গের (যেমন— রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও) জলবায়ু ও দোআঁশ মাটি আখ চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং তাজা আখ সরবরাহের সুবিধার্থে এই অঞ্চলের আখ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর নিকটেই অধিকাংশ চিনিকল গড়ে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো লোহা ও ইস্পাত শিল্প, যাকে সকল ভারী শিল্পের মেরুদণ্ড এবং আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
লোহা ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার প্রধান ভৌগোলিক নিয়ামকসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কাঁচামালের সান্নিধ্য: এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো আকরিক লোহা, কয়লা, চুনাপাথর ও ম্যাঙ্গানিজ। এগুলো ভারী ও ওজন হ্রাসকারী উপাদান হওয়ায় পরিবহন ব্যয় কমাতে খনি বা কাঁচামাল উৎসের কাছে কারখানা গড়ে ওঠে।
২. শক্তির উৎস: লোহা গলানো ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিপুল পরিমাণ শক্তি বা জ্বালানি প্রয়োজন, যা সাধারণত কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস বা জলবিদ্যুৎ থেকে মেটানো হয়।
৩. পর্যাপ্ত জল সরবরাহ: লোহা শীতলীকরণ ও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, তাই নদী বা হ্রদের তীরে এই শিল্প গড়ে ওঠে।
৪. পরিবহন ব্যবস্থা: ভারী কাঁচামাল ও উৎপাদিত দ্রব্য আনা-নেওয়ার জন্য উন্নত রেলপথ, নৌপথ বা সমুদ্র বন্দরের সান্নিধ্য অপরিহার্য।
৫. বাজার ও মূলধন: উৎপাদিত ইস্পাতের চাহিদা সম্পন্ন বাজার এবং বৃহৎ যন্ত্রপাতি স্থাপনে প্রয়োজনীয় মূলধন এই শিল্পের অপরিহার্য নিয়ামক। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো লোহা ও ইস্পাত শিল্প। আধুনিক সভ্যতায় এর ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অন্যান্য শিল্পের ভিত্তি: লোহা ও ইস্পাত শিল্পকে 'সকল শিল্পের মা' বলা হয়। বস্ত্র, পাট, চিনি বা রাসায়নিক যে কোনো শিল্পের যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো তৈরিতে ইস্পাত অপরিহার্য।
২. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশ: রেললাইন, রেলগাড়ি, জাহাজ, স্টিমার, মোটরযান, উড়োজাহাজ এবং বড় বড় সেতু নির্মাণে ইস্পাত প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইস্পাত ব্যতীত আধুনিক দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা অচল।
৩. নির্মাণ শিল্পে অবদান: আকাশচুম্বী বহুতল ভবন, কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাঁধ, উড়ালসড়ক ইত্যাদি যাবতীয় আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে রড ও ইস্পাত কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।
৪. কৃষি আধুনিকায়ন: আধুনিক কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, সেচ পাম্প এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে লোহা ও ইস্পাত ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
৫. গৃহস্থালি সামগ্রী ও প্রতিরক্ষা: অতি সাধারণ সূঁচ, কাঁচি, ছুরি থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান, কামান, ট্যাঙ্ক, অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ তৈরিতে ইস্পাতের ব্যবহার অপরিহার্য।পরিশেষে বলা যায়, লোহা ও ইস্পাত ব্যতীত বর্তমান উন্নত ও যান্ত্রিক জীবনব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল। তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নে এই শিল্পের ব্যবহারিক গুরুত্ব সর্বাধিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও