ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সিন্ধু নদের তীরে প্রাচীনকালে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তাই সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা। নগরের ঘরবাড়ি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিহ্ন দেখে অনুমান করা হয় এই সভ্যতার নাগরিকরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। সুখ- সমৃদ্ধি তথা পার্থিব জীবনই তাদের আরাধ্য ছিল।

  1. ক)

    পিরামিড কী ?

    (1)
  2. খ)

    হায়ারোগ্লিফিক কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জনসাধারণের সাথে উক্ত সভ্যতার জনসাধারণের। জীবনপ্রণালীর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পিরামিড হলো প্রাচীন মিশরের ফারাও বা রাজাদের মমি সংরক্ষণের জন্য পাথরের তৈরি সুবিশাল ত্রিকোণাকার সমাধিস্তূপ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হায়ারোগ্লিফিক হলো প্রাচীন মিশরীয়দের উদ্ভাবিত একটি চিত্রলিপি বা লিখনপদ্ধতি।

    ‘হায়ারোগ্লিফিক’ শব্দের অর্থ পবিত্র লিপি (Sacred Carving)। এটি মূলত সাংকেতিক ও ছবির সমন্বয়ে গঠিত একটি বর্ণমালা, যার মাধ্যমে মিশরীয়রা বিভিন্ন ধর্মীয় বাণী, প্রশাসনিক বিবরণ ও ইতিহাস নথিবদ্ধ করে রাখত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন মেসোপটেমীয় (বিশেষ করে সুমেরীয়/ব্যাবিলনীয়) সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার পার্থিব সুখ-সমৃদ্ধি এবং পারলৌকিক জীবনের উদাসীনতার কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার (যেমন সুমেরীয়রা) অধিবাসীরাও পরকালে বিশ্বাস করত না; তারা বিশ্বাস করত মৃত্যুর পর আত্মা এক অন্ধকার জগতে বিলীন হয়ে যায়। ফলে তারা পারলৌকিক আচারের চেয়ে পার্থিব সমৃদ্ধি, কৃষি, আইন ও নগর জীবনের উন্নয়নকেই প্রধান আরাধ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আবার নাগরিক পরিকল্পনা ও নদীকেন্দ্রিক নগর সভ্যতার বিচারে এটি মিশরীয় বা ব্যবিলনীয় সভ্যতার সাথেও সম্পর্কযুক্ত। তবে পরকালভাবনাহীন ইহজাগতিক জীবনধারার দিক থেকে মেসোপটেমীয়/সুমেরীয় সভ্যতার সাথে এর সবচেয়ে স্পষ্ট সাদৃশ্য দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার জনগণের জীবনপ্রণালীর সাথে মেসোপটেমীয় সভ্যতার জনগণের জীবনপ্রণালীর মধ্যে গভীর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

    সিন্ধু সভ্যতার মানুষ ছিল নগরকেন্দ্রিক ও শান্তিপ্রিয়। তারা অত্যন্ত উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, স্নানাগার, প্রশস্ত রাস্তা এবং পোড়ামাটির ইটের বহুতল বাড়ি নির্মাণ করে বাস করত। তাদের জীবিকা ছিল মূলত কৃষিকাজ ও বহির্বাণিজ্য। পারলৌকিক জটিল আচার-অনুষ্ঠান এড়িয়ে পার্থিব জীবনে আরাম-আয়েশ নিশ্চিত করাই ছিল তাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

    অন্যদিকে, মেসোপটেমীয় সভ্যতার মানুষও নদী অববাহিকায় নগরভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলে। তারাও সিন্ধু সভ্যতার মতো কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কারুশিল্পে দক্ষ ছিল এবং পরকালের চেয়ে ইহজাগতিক বিষয়কে প্রাধান্য দিত। তবে পার্থক্যের দিক থেকে মেসোপটেমীয় সমাজে ধর্মের ভিত্তিতে পুরোহিতদের শাসন, সুবিশাল জিগুরাত (মন্দির) এবং কঠোর আইনকানুন (যেমন হাম্মুরাবির আইন) প্রচলিত ছিল, যা সিন্ধু সভ্যতায় স্পষ্ট নয়।

    অতএব, জীবনযাত্রার পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গি এবং নগর ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে উভয় সভ্যতার জনগণের জীবনপ্রণালী কাছাকাছি হলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর দিক থেকে উভয়ের মধ্যে নিজস্ব বৈচিত্র্য বিদ্যমান ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন