ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কয়লা কী?

    (1)
  2. খ)

    যান্ত্রিক সভ্যতার ভিত্তি হলো আকরিক লৌহ- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলের প্রধান খনিজের বণ্টন ব্যাখ্যা ! করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলের প্রধান খনিজটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ— কথাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কয়লা হলো ভূ-গর্ভে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ চাপ ও তাপে পরিবর্তিত হয়ে গঠিত এক প্রকার কঠিন, দাহ্য ও কালো বা কালচে-বাদামি রঙের পাললিক শিলা ও জীবাশ্ম জ্বালানি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আধুনিক শিল্প ও যান্ত্রিক সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি হলো লোহা ও ইস্পাত, যা আকরিক লৌহ থেকে প্রস্তুত করা হয়। ভারী শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, রেললাইন, যানবাহন, জাহাজ, সেতু, সুরম্য ভবন থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রতম পেরেক পর্যন্ত সবকিছু তৈরিতে লোহা অপরিহার্য। আকরিক লৌহ ছাড়া এসব উৎপাদন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেই আকরিক লৌহকে যান্ত্রিক সভ্যতার ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো মধ্যপ্রাচ্য (Middle East) বা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া। এই অঞ্চলের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম।

    মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ তেলের বণ্টন নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. সৌদি আরব: বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ। এর ঘাওয়ার, আবকাইক, সাফানিয়া ইত্যাদি প্রধান তেলক্ষেত্র।
    ২. ইরাক: কিরকুক, মসুল, বসরা এবং রুমায়লা ইরাকের প্রধান তেলক্ষেত্র।
    ৩. ইরান: মসজিদ-ই-সুলাইমান, হাফতকেল, গাচসারান এবং আগাজারি এখানকার প্রধান তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল।
    ৪. কুয়েত: বুরগান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র, যা কুয়েতে অবস্থিত।
    ৫. সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবি, দুবাই ও শারজাহ অঞ্চলে প্রচুর তেল উৎপাদিত হয়।
    এছাড়া কাতার ও ওমানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খনিজ তেল মজুত ও উত্তোলিত হয়। বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেলের মজুতের অর্ধেকেরও বেশি এই অঞ্চলে অবস্থিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের প্রধান খনিজ হলো খনিজ তেল (পেট্রোলিয়াম), যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিম্নরূপ:
    ১. বৈশ্বিক শক্তির প্রধান উৎস: আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা (সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান) এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে খনিজ তেল প্রধান ভূমিকা রাখে। তাই উন্নত ও উন্নয়নশীল সকল দেশের কাছেই তেল অপরিহার্য পণ্য।
    ২. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ওপেক (OPEC)-এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা অন্যান্য পণ্যের পরিবহন খরচ ও সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
    ৩. পেট্রোডলার ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তেলের লেনদেন সাধারণত মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হয়, যা 'পেট্রোডলার' অর্থনীতি নামে পরিচিত। তেল রপ্তানি করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা দিয়ে তারা বিশ্ববাজার থেকে শিল্পদ্রব্য ও খাদ্যদ্রব্য আমদানি করে।
    ৪. ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব: তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক অনন্য কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সংকট দেখা দেয়।

    অতএব, দেখা যায় যে মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ তেল কেবল একটি জ্বালানি সম্পদ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন