যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১:আম হয় পুষ্টিকর জাম হয় পুষ্টিকর কলা হয় পুষ্টিকর ... সকল ফল হয় পুষ্টিকরদৃশ্যকল্প-২: রহমান বলল, আমি এ যাবৎ যত ইংল্যান্ডবাসী দেখেছি তারা সবাই ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। অন্য কোনো ভাষায় কথা বলতে দেখিনি। সুতরাং সকল ইংল্যান্ডবাসী ইংরেজি ভাষায় কথা বলে।
- ক)(1)
প্রকৃত আরোহ কাকে বলে?
- খ)(2)
'আরোহাত্মক উল্লম্ফন আরোহের প্রাণ'-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত অনুমানটি কোন প্রকারের আরোহ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
প্রকৃত আরোহের শ্রেণিবিভাগের আলোকে দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে আরোহ অনুমানে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ 'আরোহাত্মক উল্লম্ফন' (Inductive leap) বিদ্যমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আরোহাত্মক উল্লম্ফন' বলতে জানা থেকে অজানায়, দৃষ্ট থেকে অদৃষ্টে কিংবা বিশেষ থেকে সার্বিকে পদার্পণ করাকে বোঝায়। আরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্য হলো কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা। এই জানা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এক অজানা সার্বিক সত্যে উত্তরণই হলো উল্লম্ফন। উল্লম্ফন না থাকলে আরোহ তার স্বকীয়তা হারায় এবং তা নিছক বর্ণনামূলক বা অবরোহের রূপ নেয়। যুক্তিবিদ মিল-এর মতে, এই উল্লম্ফনই আরোহের অপরিহার্য প্রক্রিয়া, তাই আরোহাত্মক উল্লম্ফনকে আরোহের প্রাণ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত অনুমানটি 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' (Unscientific Induction)।
যে আরোহ অনুমানে কোনো কার্যকারণ সম্বন্ধ নির্ণয় না করে কেবল প্রতিকূল দৃষ্টান্তবিহীন অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়, তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ রহমান সাহেব এ যাবৎ যত ইংল্যান্ডবাসী দেখেছেন, তাদের সকলকে ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে দেখেছেন এবং কোনো প্রতিকূল দৃষ্টান্ত পাননি। এই অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, "সকল ইংল্যান্ডবাসী ইংরেজি ভাষায় কথা বলে"। এখানে ইংরেজদের সাথে ইংরেজি ভাষার কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়নি, কেবল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করা হয়েছে। তাই এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃত আরোহ তিন প্রকার: বৈজ্ঞানিক আরোহ, অবৈজ্ঞানিক আরোহ এবং সাদৃশ্যানুমান। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ হলো বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো অবৈজ্ঞানিক আরোহ। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ করা হলো:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: দৃশ্যকল্প-১ এ আম, জাম, কলা প্রভৃতি ফলের পুষ্টিকর গুণের ওপর ভিত্তি করে এবং পুষ্টি উপাদানের সাথে ফলের কার্যকারণ সম্পর্ক নিশ্চিত করে 'সকল ফল হয় পুষ্টিকর' সিদ্ধান্ত টানা হয়। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এ কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়াই কেবল ইংল্যান্ডবাসীদের দেখে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার সাধারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২. ভিত্তি: দৃশ্যকল্প-১ বা বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম—উভয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ কেবল প্রতিকূল দৃষ্টান্তহীন অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত; এতে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো অনুসন্ধান থাকে না।
৩. নিশ্চয়তার মাত্রা: দৃশ্যকল্প-১ এর সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি সুনিশ্চিত। অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এর সিদ্ধান্ত কেবল সম্ভাব্য; একটিমাত্র বিপরীত দৃষ্টান্ত পেলেই (যেমন কোনো ইংল্যান্ডবাসী মূক বা অন্য ভাষাভাষী হলে) সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।
৪. প্রকৃতির জটিলতা: বৈজ্ঞানিক আরোহ (দৃশ্যকল্প-১) পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল প্রকৃতির নিয়ম উন্মোচন করে, আর অবৈজ্ঞানিক আরোহ (দৃশ্যকল্প-২) সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতালব্ধ অনুমানের রূপ।
সুতরাং, প্রকৃত আরোহের শ্রেণিবিভাগের ভিত্তিতে দৃশ্যকল্প-১ (বৈজ্ঞানিক আরোহ) দৃশ্যকল্প-২ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ) অপেক্ষা অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক, সুদৃঢ় এবং সুনিশ্চিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও