ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
খালিদ সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। রহিমা খাতুন ঐ অফিসের আয়া। অন্যেরা তাচ্ছিল্য করে কথা বললেও খালিদ রহিমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলেন এবং তার কাছে কোনো কাজে গেলে তাকে চেয়ারে বসতে দেন। একই অফিসের কর্মচারী শারমিন। তার শিশুটিকে ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে কাজে আসেন। রহিমা খাতুন দেখলেন শিশুটি কান্না করছে। তখন রহিমা তাকে আদর করেন এবং নিজের ব্যাগ থেকে বিস্কুট বের করে খেতে দেন।
- ক)(1)
হালাল উপার্জন কী?
- খ)(2)
'স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক'- বুঝিয়ে লিখ।
- গ)(3)
খালিদ সাহেবের আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
শিশুটির প্রতি রহিমার আচরণের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি শরিয়তসম্মত উপায়ে যে অর্থ-সম্পদ বা জীবিকা উপার্জন করা হয়, তাকে হালাল উপার্জন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)। পরিচ্ছদ বা পোশাক যেভাবে মানুষের ত্রুটি ও লজ্জা ঢেকে রাখে, শীত-গ্রীষ্ম থেকে রক্ষা করে এবং সৌন্দর্য বাড়ায়, স্বামী-স্ত্রীও একইভাবে একে অপরের দোষ-ত্রুটি গোপন রেখে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। দাম্পত্য জীবনে একে অন্যের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে পারস্পরিক সহানুভূতি ও ভালোবাসার মাধ্যমে সংসার পূর্ণতা পায়, তাই তারা একে অপরের পরিপূরক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খালিদ সাহেবের আচরণে অধীনস্ত কর্মচারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শ্রমিকের মর্যাদার সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটেছে।
ইসলামে কোনো মানুষকে তার কাজের ধরন দেখে হীন বা ছোট মনে করা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) অধীনস্তদের ভাই হিসেবে গণ্য করতে এবং নিজেরা যা খাবেন ও পরবেন, তাদেরও তা খাওয়াতে ও পরাতে নির্দেশ দিয়েছেন। খালিদ সাহেব সরকারি বড় কর্মকর্তা হয়েও আয়া রহিমা খাতুনকে তাচ্ছিল্য না করে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং চেয়ারে বসতে দেন। তাঁর এই আচরণে ইসলামের সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিশুটির প্রতি রহিমার আচরণের তাৎপর্য মূলত ইসলামের 'স্নেহ ও দয়াশীলতা' গুণের বহিঃপ্রকাশ।
ইসলামে ছোটদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন ও দুর্বলদের প্রতি দয়া দেখানোর বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মহানবি (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান দেখায় না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" রহিমা খাতুন অন্য একজনের কর্মজীবী মায়ের অসহায়ত্ব ও শিশুর কান্না দেখে এগিয়ে যান, তাকে আদর করেন এবং নিজের খাবার খাইয়ে শান্ত করেন। এই আচরণের মাধ্যমে নিঃস্বার্থ মানবতাবোধ, শিশু বাৎসল্য এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার মহৎ শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে, যা সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও