বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে প্রেম ও দ্রোহের বার্তা সমানভাবে। বঞ্চিত মানুষেরা তাঁর লেখায় খুঁজে পান উজ্জীবনের মন্ত্র। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। অথচ তাঁর কবিতা ও গান আজও প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস। তাইতো তিনি মরেও অমর হয়ে আছেন আপামর জনসাধারণের মাঝে।
- ক)(1)
'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- খ)(2)
“চারিদিকে বাঁকা জল”—চরণটিতে কীসের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'সোনার তরী' কবিতার কোন দিকটি উদ্দীপকের কবির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
“কর্মী নয়, কর্মই অবিনশ্বর”— উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“চারিদিকে বাঁকা জল”—চরণটিতে মূলত ক্ষুরধার ও বাঁকা স্রোতে বহমান নদীর কথা বলা হলেও রূপক অর্থে এর দ্বারা মানবজীবনের চারপাশের কালস্রোত বা অনিবার্য ধ্বংসের পটভূমিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাঁকা জল এখানে মহাকালের প্রতীক, যা মানুষের সৃষ্টিশীল অবদানকে টিকিয়ে রাখলেও ব্যক্তি-মানুষকে মৃত্যুর দিকে গ্রাস করে নিয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কবির সাথে 'সোনার তরী' কবিতার সৃষ্টিকর্মের অমরত্ব ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সোনার তরী' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেখিয়েছেন যে, মহাকালের প্রতীক সোনার তরী কৃষকের (কবির) উৎপাদিত সোনার ধান (সৃষ্টিশীল কর্ম) সানন্দে গ্রহণ করে, কিন্তু ব্যক্তি কৃষককে নৌকায় স্থান দেয় না। অর্থাৎ ব্যক্তি মানুষ মরণশীল হলেও তার মহৎ কর্ম বা সৃষ্টি কালজয়ী হয়ে বিশ্বসংসারে টিকে থাকে।
উদ্দীপকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শারীরিকভাবে মৃত্যুবরণ করলেও তাঁর রচিত গান, কবিতা ও দ্রোহের বার্তা আজও মানুষের অন্তরে বেঁচে আছে এবং তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন। 'সোনার তরী' কবিতার এই মূল সুর—ব্যক্তির অবসান কিন্তু সৃষ্টির শাশ্বত রূপ—উদ্দীপকের কবির অমরত্বের ধারনার সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“কর্মী নয়, কর্মই অবিনশ্বর”— উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার দার্শনিক চেতনার আলোকে উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার গভীরতম সত্য হলো মহাকালের নির্মম পরিণতি। ক্ষুদ্র দ্বীপে একাকী কৃষক তার সোনার ধান তুলে দেয় তরীর মাঝির হাতে। কিন্তু তরী ভরে যাওয়ায় কৃষকের নিজের আর সেখানে জায়গা হয় না; শূন্য নদীর তীরে তাকে একাকী পড়ে থাকতে হয়। এই রূপকের মাধ্যমে কবি ফুটিয়ে তুলেছেন যে, পৃথিবী মানুষের মহৎ সৃষ্টিকর্ম বা অবদানকে সাদরে গ্রহণ করে ও রক্ষা করে, কিন্তু নশ্বর রক্তমাংসের মানুষকে মহাকালের অতল গর্ভে বিলীন হতে হয়।
উদ্দীপকেও একই সত্য প্রতিফলিত হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, অর্থাৎ কর্মী বা স্রষ্টা চলে গেছেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্ট গান ও কবিতা কোটি মানুষের মুক্তির প্রেরণা হয়ে আজও বেঁচে আছে, যা কর্মের অবিনশ্বর রূপকেই প্রমাণ করে।
সুতরাং, উভয় ভাবনার সারসংক্ষেপ হলো—মানুষ মরণশীল, তাই ব্যক্তি বা কর্মীর শারীরিক অস্তিত্ব চিরস্থায়ী নয়; কেবল মানুষের নিঃস্বার্থ ও মহৎ কর্মই কালের সীমা অতিক্রম করে টিকে থাকে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও