ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

সর্বোত্তম অনুমানভিত্তিক উত্তর — আনুষ্ঠানিক উত্তর নয়: মূল তথ্য বা উত্তরে অস্পষ্টতা/অসম্পূর্ণতা রয়েছে। প্রদত্ত উত্তরটি নিশ্চিত নয়; যাচাই করে ব্যবহার করো।

  1. ক)

    কাম্য জনসংখ্যার সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    জনসংখ্যার বন্টনের উপর ভালবায়ুর প্রভাব রয়েছে- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্বের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ক ও খ অন্যদের জনসংখ্যা বন্টনের ভারতম্য ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: মানচিত্রের অবস্থান অনুযায়ী 'ক' কে উত্তর/উত্তর-মধ্যাঞ্চলের পলল সমভূমি অঞ্চল এবং 'খ' কে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। | প্রশ্নের বানান সংশোধিত ধরা হয়েছে: 'ভালবায়ুর' -> 'জলবায়ুর', 'অন্যদের' -> 'অঞ্চলের', 'ভারতম্য' -> 'তারতম্য'।

    কোনো দেশের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের সাথে জনসংখ্যার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থাকে কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population) বলে, যেখানে জনগণের মাথাপিছু উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়।

  2. খ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: মানচিত্রের অবস্থান অনুযায়ী 'ক' কে উত্তর/উত্তর-মধ্যাঞ্চলের পলল সমভূমি অঞ্চল এবং 'খ' কে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। | প্রশ্নের বানান সংশোধিত ধরা হয়েছে: 'ভালবায়ুর' -> 'জলবায়ুর', 'অন্যদের' -> 'অঞ্চলের', 'ভারতম্য' -> 'তারতম্য'।

    জনসংখ্যার বণ্টনে জলবায়ুর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও প্রত্যক্ষ।

    অনুকূল ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুযুক্ত অঞ্চলে জীবনযাপন সহজ এবং কৃষিকাজ ও শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ থাকে। ফলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও সহনীয় তাপমাত্রার কারণে সেখানে মানুষের বসতি ঘন হয়। অন্যদিকে, চরমভাবাপন্ন জলবায়ু অঞ্চল—যেমন প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহযুক্ত মেরু অঞ্চল বা প্রচণ্ড উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমিতে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে মানুষের জীবনধারণ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ফলে সেসব অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুবই কম বা বিরল হয়।

  3. গ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: মানচিত্রের অবস্থান অনুযায়ী 'ক' কে উত্তর/উত্তর-মধ্যাঞ্চলের পলল সমভূমি অঞ্চল এবং 'খ' কে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। | প্রশ্নের বানান সংশোধিত ধরা হয়েছে: 'ভালবায়ুর' -> 'জলবায়ুর', 'অন্যদের' -> 'অঞ্চলের', 'ভারতম্য' -> 'তারতম্য'।

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' দ্বারা বাংলাদেশের উত্তর/উত্তর-মধ্যাঞ্চলকে (ময়মনসিংহ/ঢাকা বিভাগের উত্তরাংশ) নির্দেশ করা হয়েছে।

    এ অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্বের প্রকৃতি সাধারণত 'ঘন থেকে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ'। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই সমতল অববাহিকায় মানুষের বসবাস বেশ নিবিড়।

    এই ঘনত্বের প্রকৃতির মূল কারণসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ভূপ্রকৃতি ও উর্বর মৃত্তিকা: অঞ্চলটি মূলত নদীবিধৌত পলল সমভূমি। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর, যা নিবিড় কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী।
    ২. কৃষিনির্ভর জীবিকা: উর্বর ভূমির কারণে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য ফসলের প্রচুর উৎপাদন হয়, যা বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যচাহিদা মেটাতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক।
    ৩. সমতল ভূমি ও বসতি স্থাপন: পাহাড়ি বা উপকূলীয় অঞ্চলের মতো প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা না থাকায় ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং জীবনযাপন তুলনামূলকভাবে সহজ ও নিরাপদ।

    সুতরাং, অনুকূল ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলটি উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ববিশিষ্ট এলাকা হিসেবে গড়ে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: মানচিত্রের অবস্থান অনুযায়ী 'ক' কে উত্তর/উত্তর-মধ্যাঞ্চলের পলল সমভূমি অঞ্চল এবং 'খ' কে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। | প্রশ্নের বানান সংশোধিত ধরা হয়েছে: 'ভালবায়ুর' -> 'জলবায়ুর', 'অন্যদের' -> 'অঞ্চলের', 'ভারতম্য' -> 'তারতম্য'।

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' (উত্তর/উত্তর-মধ্যাঞ্চল) এবং 'খ' (পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল) অঞ্চলদ্বয়ের ভৌগোলিক পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক অবকাঠামোর পার্থক্যের কারণে জনসংখ্যা বণ্টনে সুস্পষ্ট তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।

    উভয় অঞ্চলের জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের প্রধান কারণসমূহ নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভূপ্রাকৃতিক ভিন্নতা: 'ক' অঞ্চল প্রধানত নদীবিধৌত পলল সমভূমি হওয়ায় এখানে সর্বত্র বসতি গড়ে তোলা সহজ। পক্ষান্তরে, 'খ' অঞ্চলের একটি বড় অংশ পাহাড়ি ও উঁচু-নিচু ভূপ্রকৃতি (যেমন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল) হওয়ায় সেখানে সমতল ভূমির মতো অবাধে বসতি স্থাপন সম্ভব নয়।

    ২. মাটির উর্বরতা ও কৃষিকাজ: 'ক' অঞ্চলের উর্বর পলিমাটিতে ধান, পাট ও শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে ফলে, যা বিপুল জনবসতিকে ধারণ করতে পারে। অপরদিকে 'খ' অঞ্চলের পাহাড়ি ঢালে জুম চাষ ও কিছু বাগান কৃষির সীমাবদ্ধ সুযোগ থাকায় খাদ্য উৎপাদন সমভূমির তুলনায় কম, ফলে সেখানে জনসংখ্যা কম থাকে।

    ৩. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: সমতল ভূমির কারণে 'ক' অঞ্চলে সড়ক ও রেলপথের সংযোগ অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বিস্তৃত। বিপরীতে, পাহাড়ি বা বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় ভূপ্রকৃতির কারণে 'খ' অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্গম ও ব্যয়বহুল, যা জনসংখ্যা বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করে।

    ৪. শিল্পায়ন ও নগরায়ণ: 'খ' অঞ্চলের বন্দর এলাকা বা কিছু বিশেষ শহর ব্যতীত সামগ্রিক পাহাড়ি অঞ্চলে শিল্প-কারখানার বিস্তার সমভূমির মতো নয়। পক্ষান্তরে, 'ক' অঞ্চলের সমতল অববাহিকায় ছোট-বড় শিল্প ও ব্যবসাকেন্দ্র দ্রুত গড়ে উঠেছে।

    পরিশেষে বলা যায়, ভূপ্রকৃতি, মাটির গুণাগুণ, কৃষি সম্ভাবনা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার তারতম্যের কারণেই 'ক' অঞ্চলে ঘনবসতি দেখা যায় এবং 'খ' অঞ্চলের পাহাড়ি/উপকূলীয় অংশে তুলনামূলকভাবে মাঝারি বা বিরল বসতি লক্ষ্য করা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন