সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাস। এদের। ঐতিহ্যবাহী নৃত্যগীত 'ঝুমুর'। এদের গায়ের রং কালো এবং নাকের গড়ন নিগ্রোদের মতো খ্যাদা ও চ্যাপ্টা। প্রাচীনকালে এরা তীর-ধনুক দিয়ে শিকার করতো। বর্তমানে এরা দিনমজুর ও কৃষিজীবী হলেও বিশ শতকের' প্রথম ভাগে এদের দ্বারা সংঘটিত বিদ্রোহ বাংলার ইতিহাসে একটি আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনা।
- ক)(1)
নোকনা কী?
- খ)(2)
জুম চাষকে সরকার নিরুৎসাহিত করার কারণ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক জীবনধারা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গারোদের মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থায় যে কন্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পরিবারের মূল সম্পত্তির অধিকারিণী হয়, তাকে 'নোকনা' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাহাড়ি এলাকায় বনজঙ্গল পুড়িয়ে প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করাকে জুম চাষ বলা হয়। এই চাষের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষতি সাধিত হয়। জুম চাষের ফলে পাহাড়ের বন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, মাটির উর্বরতা কমে যায় এবং বর্ষাকালে মারাত্মকভাবে ভূমিধস বা পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পরিবেশ বিপর্যয় রোধ, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং আধুনিক স্থায়ী কৃষিপদ্ধতি প্রসারের লক্ষ্যে সরকার জুম চাষকে নিরুৎসাহিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী 'সাঁওতাল'-দের কথা বলা হয়েছে।
নৃবিজ্ঞানীদের মতে, সাঁওতালরা অস্ট্রো-এশিয়াটিক বা আদি-অস্ট্রালয়েড নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য হলো কালো গায়ের রং, চ্যাপ্টা নাক ও তরঙ্গায়িত চুল। ঐতিহ্যবাহী 'ঝুমুর' নাচ ও গান সাঁওতালদের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক পরিচয়। এছাড়াও বাংলার ইতিহাসে বিশ শতকের প্রথম ভাগে (১৯৩২ সালে) জীতু সাঁওতালের নেতৃত্বে সংঘটিত সাঁওতাল বিদ্রোহ এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বাস করে, তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান ঝুমুর, শারীরিক গড়ন চ্যাপ্টা নাক ও কালো গায়ের রঙের এবং তারা বিশ শতকের শুরুতে বিদ্রোহ করেছিল। এ সকল তথ্য সুস্পষ্টভাবে সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতালদের আর্থ-সামাজিক জীবনধারা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং স্বতন্ত্র। নিম্নে তাদের আর্থ-সামাজিক জীবনধারা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অর্থনৈতিক জীবনধারা: ঐতিহাসিকভাবে সাঁওতালরা শিকারি হলেও কালক্রমে তারা কৃষি ও শ্রমজীবী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশে অধিকাংশ সাঁওতাল দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করে। ধান, ভুট্টা, সরিষা ইত্যাদি ফসল ফলানোর পাশাপাশি তারা মাছ ধরা এবং পশুপালনের সাথেও জড়িত। মহিলারাও সমানভাবে পুরুষের সাথে মাঠে-ঘাটে কাজ করে জীবিকা উপার্জনে ভূমিকা রাখে। বর্তমানে শিক্ষার প্রসারের ফলে কিছু সাঁওতাল চাকরি ও ব্যবসাতেও যুক্ত হচ্ছে।
২. সামাজিক জীবনধারা: সাঁওতাল সমাজ মূলত পিতৃতান্ত্রিক। তাদের সমাজে পিতার দিক থেকেই বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়। সাঁওতাল সমাজে গ্রাম্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী, যার প্রধানকে বলা হয় 'মাঝি' বা 'মাঝি হারাম'। এছাড়া সহকারী হিসেবে পরামানিক ও জগমাঝি দায়িত্ব পালন করে। তারা কঠোর সামাজিক সংহতি বজায় রেখে চলে। তাদের বাড়িঘর মাটির তৈরি এবং অত্যন্ত পরিপাটি ও নকশাখচিত হয়ে থাকে। সোহরাই, বাহারে প্রভৃতি তাদের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব।সংক্ষেপে বলা যায়, নানা প্রতিকূলতা এবং দারিদ্র্য সত্ত্বেও সাঁওতাল জনগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংহতি ও কঠোর পরিশ্রমভিত্তিক অর্থনৈতিক জীবনধারা টিকিয়ে রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও