রসায়ন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপক-১: আখের রস> খাদ্যসংরক্ষক (A)

  1. ক)

    দ্রাব্যতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    Na2SO4⋅10H2O \mathrm{Na}{2} \mathrm{SO}{4} \cdot 10 \mathrm{H}_{2} \mathrm{O} এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বাড়ালে দ্রাব্যতার কী পরিবর্তন হয় বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক-২ এর পদার্থগুলো সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহারে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে কি না-ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক-১ এর A দ্বারা খাদ্য সংরক্ষণের কৌশল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম দ্রাবককে সম্পৃক্ত দ্রবণে পরিণত করতে যত গ্রাম দ্রব প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ তাপমাত্রায় ঐ দ্রবের দ্রাব্যতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্লোবার লবণ বা সোডিয়াম সালফেট ডেকা-হাইড্রেট (Na2SO4·10H2O)-এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে দ্রাব্যতার ব্যতিক্রমী আচরণ দেখা যায়।

    সাধারণ তাপমাত্রা থেকে ৩২.৪ °C তাপমাত্রা পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে দ্রাব্যতা বৃদ্ধি পায়, কারণ এ সময় স্ফটিক পানিযুক্ত Na2SO4·10H2O দ্রবীভূত হতে থাকে এবং এটি একটি তাপহারী প্রক্রিয়া। কিন্তু ৩২.৪ °C তাপমাত্রায় স্ফটিক পানি অপসারিত হয়ে এটি অনার্দ্র Na2SO4-এ পরিণত হয়। ৩২.৪ °C এর উপরে তাপমাত্রা আরও বাড়ালে অনার্দ্র Na2SO4-এর দ্রাব্যতা হ্রাস পায়, কারণ অনার্দ্র Na2SO4-এর দ্রবীভবন একটি তাপোৎপাদী প্রক্রিয়া।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক-২ এ উল্লিখিত পদার্থগুলো হলো খাবার লবণ (NaCl), চিনি বা গ্লুকোজ (C6H12O6) এবং ভিনেগার (6-10% CH3COOH জলীয় দ্রবণ)। এগুলি প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক (Natural Preservatives)।

    প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে এদের ব্যবহারে সাধারণত মানবদেহে কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, যা কৃত্রিম বা রাসায়নিক প্রিজারভেটিভগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়। এরা অণুজীবের বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার রোধ করে খাদ্যকে সতেজ ও খাওয়ার উপযোগী রাখে।

    তবে এদের অতিরিক্ত ব্যবহারে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:
    ১. NaCl (খাবার লবণ): খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension), হৃদরোগ এবং কিডনির জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
    ২. C6H12O6 (চিনি/গ্লুকোজ): অতিরিক্ত চিনি সমৃদ্ধ সংরক্ষিত খাদ্য গ্রহণ করলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর এবং মেদবৃদ্ধি বা স্থূলতা সৃষ্টি করে।
    ৩. ভিনেগার (লঘু এসিটিক এসিড): এটি প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে পাকস্থলীতে এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

    সুতরাং পরিমিত পরিমাণে ব্যবহারে এগুলোর কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ মানবস্বাস্থ্যের জন্য কিছু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক-১ অনুসারে, আখের রসের সন্ধান বা গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় তৈরি খাদ্য সংরক্ষক 'A' হলো ভিনেগার বা ইথানয়িক এসিডের লঘু জলীয় দ্রবণ (CH3COOH, ৬-১০%)।

    ভিনেগার দ্বারা খাদ্য সংরক্ষণের মূল কৌশল বা কার্যপদ্ধতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি: ভিনেগারে থাকা এসিটিক এসিড একটি মৃদু এসিড, যা খাদ্যের জলীয় মাধ্যমে আংশিক বিয়োজিত হয়ে প্রোটন (H+) তৈরি করে—
    CH3COOH(aq) ⇌ CH3COO−(aq) + H+(aq)
    এর ফলে খাদ্য মাধ্যমের pH হ্রাস পায় এবং পরিবেশ অম্লীয় হয়ে ওঠে (সাধারণত pH ৩.০–৪.০ এর মধ্যে নেমে আসে)।

    ২. ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীবের বৃদ্ধি রোধ: খাদ্যের পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এবং এনজাইম সাধারণত নিরপেক্ষ বা সামান্য ক্ষারীয় মাধ্যমে (pH ৬.৫ - ৭.৫) কার্যকর থাকে। অম্লীয় পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার প্রয়োজনীয় এনজাইমের কার্যকারিতা বিনষ্ট বা ডিনেচার্ড হয়ে যায়। ফলে অণুজীবের প্রোটিন বিকৃত হয়ে ব্যাকটেরিয়া মারা যায় বা এদের বংশবৃদ্ধি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

    ৩. কোষ প্রাচীর ভেদ করে কোষীয় কার্যক্রম ব্যাহত করা: অবিয়োজিত অ্যাসিটিক এসিডের অণু ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লি ভেদ করে কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করে। কোষের ভেতরে প্রবেশ করে এসিড আয়নিত হয়ে প্রোটন উৎপন্ন করে, যার ফলে কোষের অভ্যন্তরীণ স্বাভাবিক মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়।

    এভাবে ভিনেগার (A) খাদ্যের অণুজীব আক্রমণ প্রতিহত করে দীর্ঘকাল খাদ্য সামগ্রী (যেমন- আচার, সস, চাটনি ইত্যাদি) নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন