ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব আব্দুল আওয়াল স্যার শ্রেণিকক্ষে তার ছাত্রছাত্রীদের একজন প্রসিদ্ধ ফিকাহবিদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম দেশের সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমান, এ ফিকাহবিদের অনুসারী। কারণ তাঁর উদ্ভাবিত ফিকহি মাসয়ালা অধিকতর গ্রহণযোগ্য। এরূপ একজন প্রখ্যাত ব্যক্তির জীবনাবসান হয়েছিল আব্বাসীয় শাসক খলিফা আল-মনসুরের প্রয়োগকৃত বিষক্রিয়ার মাধ্যমে।
- ক)(1)
'বাকারাহ' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'মুজতাহিদগণ ভুল করলেও প্রতিদান প্রাপ্ত হবেন।"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন মাযহাবকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আব্দুল আওয়াল স্যারের আলোচনার প্রসিদ্ধ ফিকাহবিদের 'জীবন ও কর্ম' সম্পর্কে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বাকারাহ' (بقرة) শব্দের অর্থ গাভী বা গরু।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো বিচারক বা মুজতাহিদ যখন ইজতিহাদ (গবেষণা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ) করেন এবং তাতে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তিনি দুটি প্রতিদান (সওয়াব) পান। আর যদি তিনি আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও ইজতিহাদে ভুল করেন, তবে তিনি একটি প্রতিদান পান। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সত্য অনুসন্ধান করা এবং তিনি আল্লাহর বিধান অনুসন্ধানে মেধা ও শ্রম ব্যয় করেছেন। এই নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টার কারণেই ভুলের ক্ষেত্রেও তিনি গুনাহগার না হয়ে একটি সওয়াবের অধিকারী হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হানাফি মাযহাবকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ফিকাহবিদ হলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.), যিনি হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন চার প্রসিদ্ধ ইমামের অন্যতম। তাঁর সংকলিত ও উদ্ভাবিত ফিকহি মাসয়ালা যুক্তিগ্রাহ্য ও বাস্তবভিত্তিক হওয়ায় তা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পায়। তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের বিচারপতির পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং সেখানেই বিষপ্রয়োগে তাঁকে হত্যা করা হয়। বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশগুলো (যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক, মধ্য এশিয়া ইত্যাদি) মূলত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অনুসৃত হানাফি মাযহাবের অনুসারী। সুতরাং উদ্দীপকে হানাফি মাযহাবের কথাই ব্যক্ত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আব্দুল আওয়াল স্যারের আলোচনার প্রসিদ্ধ ফিকাহবিদ হলেন ইমাম আযম আবু হানিফা (রহ.)। নিম্নে তাঁর জীবন ও কর্ম সংক্ষেপে মূল্যায়ন করা হলো:
১. জন্ম ও পরিচয়: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ৮০ হিজরি/৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মূল নাম নোমান এবং পিতার নাম সাবিত। তিনি তাবেয়ীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
২. ইলম অর্জন ও জ্ঞানচর্চা: তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। কুফার শ্রেষ্ঠ আলেম হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানের নিকট দীর্ঘ ১৮ বছর ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। কুরআন, হাদিস, আকাইদ ও ফিকহ শাস্ত্রে তিনি অগাধ পান্ডিত্য অর্জন করেন।
৩. কর্ম ও ফিকহ সংকলন: তিনি কিয়াস ও ইস্তেসহানের মাধ্যমে সমসাময়িক হাজার হাজার জটিল সমস্যার সমাধান দেন। তিনি তাঁর প্রখ্যাত চল্লিশ জন যোগ্য ছাত্র সমন্বয়ে একটি 'ফিকহ একাডেমি' বা পরিষদ গঠন করেন, যার মাধ্যমে ইসলামী আইন ও মাসয়ালাসমূহ সুবিন্যস্তভাবে সংকলন করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আল-ফিকহুল আকবার', 'মুসনাদে আবু হানিফা' ইত্যাদি।
৪. চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও শাহাদাত: তিনি অত্যন্ত মুত্তাকি, ব্যবসায়ী হিসেবে সৎ এবং নিরপেক্ষ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর তাঁকে প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিলে তিনি সরকারের অন্যায়ের অংশীদার না হওয়ার জন্য তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং ১৫০ হিজরি/৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে কারাগারে বিষপ্রয়োগে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।ইসলামি আইনশাস্ত্রে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়, যার কারণে তাঁকে 'ইমামে আযম' (সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও