অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কৃষকদের দারিদ্র্য, অনুন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণের অসুবিধা, দুর্বল বাজার কাঠামো, ঋণের অভাব, ত্রুটিপূর্ণ ওজন ও পরিমাণসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয়। ফলে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যহত হয়। উল্লিখিত সমস্যাগুলো সমাধান করা হলে কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য লাভ করবে। এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
- ক)(1)
কৃষি ঋণ কী?
- খ)(2)
শস্য বহুমুখীকরণের ফলে কর্মসংস্থান কীভাবে প্রভাবিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কৃষকদের কোন সমস্যার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে তোমার সুপারিশসমূহ তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট উৎপাদন, ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে কৃষক যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে কৃষি ঋণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই জমিতে সারা বছর কেবল একটি নির্দিষ্ট ফসল চাষ না করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করাকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে।
শস্য বহুমুখীকরণের ফলে জমিতে সারা বছরই ধারাবাহিকভাবে নানা রকম ফসলের উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকে। এতে কৃষিশ্রমিকদের মৌসুমি বেকারত্ব দূর হয় এবং সারা বছর কাজের সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়াও নতুন নতুন ফসল যেমন শাকসবজি, ফলমূল, ফুল ইত্যাদি চাষাবাদ, পরিচর্যা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে বাড়তি শ্রমের প্রয়োজন পড়ে। এর ফলে সামগ্রিক কৃষি খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষকদের 'কৃষি বিপণন বা বাজারজাতকরণ জনিত সমস্যা'র দিকটি মূলত প্রতিফলিত হয়েছে।
কৃষি বাজারজাতকরণ বলতে উৎপাদিত ফসল কৃষকের খামার থেকে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী প্রক্রিয়াসমূহকে (সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ, মান নির্ধারণ, প্যাকেজিং ও বিক্রয়) বোঝায়। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে অনুন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, গুদামজাতকরণের অভাব, দুর্বল বাজার কাঠামো, ত্রুটিপূর্ণ ওজন ও ঋণের অভাবের কারণে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না।
বাংলাদেশে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং ফসল সংরক্ষণের আধুনিক হিমাগার বা গুদামের সংকটের কারণে ফসল তোলার পরপরই কৃষকরা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এছাড়া সঠিক ওজনের অভাব এবং সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থার অভাবে কৃষকের লাভ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া ও পাইকারদের পকেটে। উদ্দীপকের এই উপাদানগুলো স্পষ্টতই কৃষি বিপণন ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পেছনে যেসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, তা সমাধানের জন্য নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. আধুনিক গুদাম ও হিমাগার স্থাপন: প্রতিটি উপজেলা ও প্রধান প্রধান উৎপাদন এলাকায় সরকারি ও যৌথ উদ্যোগে পর্যাপ্ত আধুনিক গুদাম এবং হিমাগার নির্মাণ করতে হবে, যাতে কৃষক ফসল সংরক্ষণ করে উপযুক্ত সময়ে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারে।
২. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: পল্লী অঞ্চলের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন বা কোল্ড-চেইন সমৃদ্ধ পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: সরকার নিয়ন্ত্রিত সরাসরি কৃষক বাজার ও পাইকারি বাজার গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কৃষক সরাসরি ভোক্তার কাছে বা বড় পাইকারের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
৪. সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ: ফসল তোলার সময় অভাবী বিক্রয় (distress sale) রোধ করতে কৃষকদের স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ এবং শস্য গুদাম ঋণ (Warehouse receipt system) দিতে হবে।
৫. প্রমিতকরণ ও ডিজিটাল ওজন পরিমাপ: বাজারে সঠিক ওজনের নিশ্চয়তা বিধানে ডিজিটাল স্কেলের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং পণ্যের মানভেদে উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ তদারকি করতে হবে।
৬. বাজার তথ্যের সহজলভ্যতা: ডিজিটাল প্রযুক্তির (মোবাইল অ্যাপ বা এসএমএস) মাধ্যমে কৃষকদের কাছে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের প্রতিদিনের হালনাগাদ মূল্যের তথ্য পৌঁছে দিতে হবে।উক্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষি বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পেয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও