অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি দেশ তার জরুরি প্রয়োজনে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে খাদ্য, ওষুধ, প্রকল্প, দান, অনুদান, ঋণ, আর্থিক ও কারিগরি যেকোনো ধরনের সাহায্য গ্রহণ করতে পারে। যাকে বৈদেশিক সাহায্য বলে। তবে এ ধরনের সাহায্য কঠিন শর্তযুক্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সুদের হার উচ্চ হয়, যাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দাতার স্বার্থ সংরক্ষণে। ব্যবহার হয় এবং গ্রহীতা দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখে। অন্যদিকে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, স্বাধীনভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় এবং বৈদেশিক নির্ভরশীলতা হ্রাসের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায়।

  1. ক)

    বাণিজ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে ভোক্তারা কীভাবে উপকৃত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের পূর্বে কী কী বিষয় খেয়াল রাখা উচিত? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "বৈদেশিক সাহায্য নয়; বৈদেশিক বাণিজ্যই একটি দেশকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে।"-উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্ম ক্রয়-বিক্রয় এবং এর বণ্টন সংক্রান্ত সকল অর্থনৈতিক কাজকে বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে ভোক্তারা বিভিন্ন দেশ থেকে উৎপাদিত উন্নত মানের এবং বৈচিত্র্যময় পণ্য ও সেবা সহজে এবং তুলনামূলকভাবে কম দামে ভোগ করার সুযোগ পায়। যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন করা ব্যয়বহুল বা অসম্ভব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে ভোক্তারা সহজেই সেগুলো সংগ্রহ করতে পারে। এছাড়া মুক্ত প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের মান বৃদ্ধি পায় এবং মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে, যা ভোক্তাদের উপযোগ ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের পূর্বে সুদের হার, শর্তাবলি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং আত্মনির্ভরশীলতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা উচিত।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত হয়েছে যে বৈদেশিক সাহায্যের সাথে কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, সুদের হার প্রায়শই উচ্চ হয় এবং এটি পরোক্ষভাবে দাতা দেশের স্বার্থ রক্ষা করে গ্রহীতা দেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলে।

    অতএব, বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের আগে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে:
    ১. ঋণের সুদের হার ও পরিশোধের সময়সীমা দেশের অর্থনীতির জন্য সহনীয় কি না।
    ২. সাহায্যের সাথে যুক্ত শর্তাবলি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে সাংঘর্ষিক কি না।
    ৩. গৃহীত সাহায্য অনুৎপাদনশীল খাতে অপচয় না হয়ে উৎপাদনশীল ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হবে কি না।
    ৪. সাহায্য গ্রহণের ফলে জাতীয় স্বনির্ভরতা ব্যাহত হয়ে অতিরিক্ত পরনির্ভরশীলতা সৃষ্টি হচ্ছে কি না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ; কারণ বৈদেশিক সাহায্য একটি দেশকে শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ ও পরনির্ভরশীল করে, পক্ষান্তরে বৈদেশিক বাণিজ্য অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে।

    উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে যে, বৈদেশিক সাহায্য অনেক সময় কঠিন শর্তযুক্ত ও উচ্চ সুদের হয়ে থাকে, যা দাতা দেশের স্বার্থ হাসিল করে এবং গ্রহীতা দেশকে পরমুখাপেক্ষী করে ফেলে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেশের সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার ঘটিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করে তোলে।

    বৈদেশিক বাণিজ্য স্বনির্ভরতার প্রতীক হওয়ার কারণসমূহ:
    ১. সম্পদের কাম্য ব্যবহার: বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশীয় অব্যবহৃত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করে আয় বৃদ্ধি করা যায়।
    ২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে দেশ নিজের অর্থায়নে স্বাধীনভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে।
    ৩. প্রযুক্তি ও দক্ষতার বিকাশ: আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে দেশীয় শিল্পে উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি ও শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
    ৪. পরনির্ভরতা হ্রাস ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা: বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো অসম শর্ত মানতে হয় না, ফলে দেশ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজস্ব উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করতে পারে।

    পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক সাহায্য সাময়িক অর্থনৈতিক বা মানবিক সংকট হয়তো মেটাতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা জাতীয় আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। বরং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী বৈদেশিক বাণিজ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন