যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: মতিন সাহেব তাঁর স্ত্রীকে বললেন, কোনো বস্তু সম্পর্কে জানতে যেমন তার সংখ্যার দিকটি আমাদের জানা প্রয়োজন হয় তেমনি সে বস্তুর সাধারণ ও আবশ্যকীয় গুণের দিকটিও জানা প্রয়োজন ।দৃশ্যকল্প-২: সালাম সাহেব তার ছেলেকে বললেন, কোনো কিছুর পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটলে তার গুণগত পরিবর্তনও ঘটে। যেমন: এক সময় গুড়ের উৎপাদন কম ছিল কিন্তু তখন গুড়ের গুণগত মান ভালো ছিল । অথচ বর্তমানে গুড়ের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু গুড়ের গুণগত মান কমে যাচ্ছে।
- ক)(1)
বস্তুবাচক পদ কী?
- খ)(2)
জাত্যর্থ ও জাত্যর্থক পদ কি একই অর্থবোধক?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ মতিন সাহেবের বক্তব্যে পদের কোন দুটি বিষয় নির্দেশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ সালাম সাহেবের বক্তব্যে পদের যে দুটি বিষয় নির্দেশিত হয়েছে, পাঠ্যবইয়ের আলোকে তাদের সম্পর্ক আলোচনা করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পদ দ্বারা কোনো বাস্তব বা নির্দিষ্ট বস্তুর অস্তিত্বকে বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক পদ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাত্যর্থ ও জাত্যর্থক পদ একই অর্থবোধক নয়। জাত্যর্থ হলো কোনো পদের আবশ্যিক ও সাধারণ গুণ বা গুণাবলি। অন্যদিকে, জাত্যর্থক পদ হলো সেই পদ, যার একই সাথে নির্দিষ্ট ব্যক্ত্যর্থ (সংখ্যার দিক) এবং জাত্যর্থ (গুণের দিক) উভয়ই বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ, জাত্যর্থ নির্দেশ করে গুণটিকে, আর জাত্যর্থক পদ নির্দেশ করে সেই গুণবিশিষ্ট পদটিকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ মতিন সাহেবের বক্তব্যে পদের 'ব্যক্ত্যর্থ' ও 'জাত্যর্থ'—এই দুটি বিষয় নির্দেশিত হয়েছে।
কোনো পদ একই অর্থে যে বস্তু বা বস্তুসমূহের ওপর প্রযুক্ত হয়, সেই বস্তু বা বস্তুসমূহের পরিমাণগত বা সংখ্যার দিককে বলা হয় সেই পদের ব্যক্ত্যর্থ। অন্যদিকে, কোনো পদ যেসব সাধারণ ও আবশ্যিক গুণকে নির্দেশ করে, সেই গুণের সমষ্টিকে বলা হয় জাত্যর্থ।
দৃশ্যকল্প-১ এ মতিন সাহেব বলেছেন কোনো বস্তু সম্পর্কে জানতে তার সংখ্যার দিক জানার প্রয়োজন, যা যুক্তিবিদ্যায় পদের পরিমাণ নির্দেশক 'ব্যক্ত্যর্থ'। আবার তিনি বলেছেন, বস্তুটির সাধারণ ও আবশ্যকীয় গুণের দিকটিও জানা প্রয়োজন, যা যুক্তিবিদ্যায় পদের গুণগত দিক অর্থাৎ 'জাত্যর্থ'। অতএব, মতিন সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের ধারণাকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ সালাম সাহেবের বক্তব্যে পদের যে দুটি বিষয় নির্দেশিত হয়েছে, তা হলো 'ব্যক্ত্যর্থ' (পরিমাণ) এবং 'জাত্যর্থ' (গুণ)। পাঠ্যবই অনুসারে এদের সম্পর্কটি হলো বিপরীতমুখী বা হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়ম।
যুক্তিবিদ্যায় পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের সম্পর্ক পরস্পরের বিপরীতমুখী। এই নিয়মটি চারটি সূত্রে প্রকাশ করা হয়:
১. ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে,
২. ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে,
৩. জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে, এবং
৪. জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।তবে এই নিয়মটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হয় যখন পদগুলো একই শ্রেণিভুক্ত বা সমজাতীয় হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ সালাম সাহেব দেখিয়েছেন যে, অতীতে গুড়ের উৎপাদন কম ছিল (ব্যক্ত্যর্থ কম), কিন্তু গুণগত মান ভালো ছিল (জাত্যর্থ বেশি)। পরবর্তীতে গুড়ের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় (ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি), তার গুণগত মান কমে গেছে (জাত্যর্থ হ্রাস)। যদিও বাস্তব বস্তুর উৎপাদন ও যুক্তিবিদ্যার জাত্যর্থ-ব্যক্ত্যর্থের তাত্ত্বিক ধারণা কিছুটা রূপকভাবে উপস্থাপিত, তথাপি এটি দৃশ্যত ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী পরিবর্তনের সম্পর্ককেই সমর্থন করে। সুতরাং, ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ একে অপরের সাথে বিপরীত অনুপাতে পরিবর্তিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও