সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
দাস কাকে বলে?
- খ)(2)
স্তরবিন্যাস সকল সমাজে বিদ্যমান - ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সামাজিক স্তরবিন্যাস ব্যবস্থার কোন ধরনটির উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ-এর মধ্যে সামাজিক অসমতা মূলত উৎপাদনের উপকরণের মালিকানাভিত্তিক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনগতভাবে যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং যার কোনো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও অধিকার থাকে না, তাকে দাস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো এমন একটি সর্বজনীন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তিদের সম্পদ, ক্ষমতা, মর্যাদা ও পেশার ভিত্তিতে বিভিন্ন উঁচু-নিচু স্তরে বিভক্ত করা হয়। আদিম সাম্যবাদী সমাজ ছাড়া ইতিহাসের প্রতিটি সমাজেই—তা প্রাচীন দাস সমাজ, সামন্তবাদী সমাজ কিংবা আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজ যাই হোক না কেন—কোনো না কোনো মাত্রায় অসমতা বা পদমর্যাদার পার্থক্য দেখা গেছে। এজন্য সমাজবিজ্ঞানী পি. এ. সরোকিনের মতে, মানব সমাজের ইতিহাসে স্তরহীন কোনো সমাজ কখনোই পাওয়া যায়নি; ফলে স্তরবিন্যাস সকল সমাজেই বিদ্যমান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামাজিক স্তরবিন্যাস ব্যবস্থার 'সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা' (Social Class and Status) রূপটিকে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক শ্রেণি হলো এমন একদল জনগোষ্ঠী, যারা অর্থনৈতিক অবস্থা, পেশা, আয় এবং জীবনযাপনের ধরনের দিক থেকে সমাজে একই স্তরে অবস্থান করে। সামাজিক শ্রেণি ব্যবস্থায় ব্যক্তি নিজের মেধা, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক অর্জনের মাধ্যমে উচ্চ, মধ্য বা নিম্ন স্তরে উন্নীত হতে পারে, অর্থাৎ এটি একটি উন্মুক্ত স্তরবিন্যাস ব্যবস্থা।
উদ্দীপকের চিত্রে তিনটি স্তরে যথাক্রমে 'শিল্পপতি', 'অধ্যাপক' ও 'শ্রমিক' উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে শিল্পপতি উচ্চবিত্ত বা উচ্চশ্রেণি, অধ্যাপক মধ্যবিত্ত বা মধ্যশ্রেণি এবং শ্রমিক নিম্নবিত্ত বা নিম্নশ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছে। এ ধরনের পেশা ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা স্তরভেদ মূলত আধুনিক সমাজব্যবস্থার 'সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা' ভিত্তিক স্তরবিন্যাসকেই তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' (শিল্পপতি) ও 'খ' (শ্রমিক)-এর মধ্যকার সামাজিক অসমতা মূলত উৎপাদনের উপকরণের মালিকানাভিত্তিক—উক্তিটি যথার্থ।
সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্ক্সের মতে, মানব সমাজের ইতিহাস হলো শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস এবং সমাজের যেকোনো স্তরবিন্যাসের মূল ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক উপাদান বা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানা। উৎপাদনের উপায়ের সাথে মানুষের সম্পর্কের ভিত্তিতে সমাজে দুটি প্রধান শ্রেণি গড়ে ওঠে: বুর্জোয়া বা পুঁজিপতি শ্রেণি এবং প্রলেতারিয়েত বা শ্রমিক শ্রেণি।
উদ্দীপকের চিত্রে 'ক' নির্দেশ করছে 'শিল্পপতি'কে এবং 'খ' নির্দেশ করছে 'শ্রমিক'কে। পুঁজিবাদী সমাজে শিল্পপতি হলেন কল-কারখানা, জমি, কাঁচামাল ও প্রযুক্তির মতো উৎপাদনের উপকরণের নিরঙ্কুশ মালিক। তাঁরা উৎপাদনের এই উপায়গুলোর মালিকানা কাজে লাগিয়ে উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাৎ করেন এবং প্রচুর ধন-সম্পদ ও সামাজিক ক্ষমতার অধিকারী হন। অন্যদিকে, শ্রমিক বা 'খ'-এর কাছে নিজের শারীরিক বা মানসিক শ্রম বিক্রি করা ছাড়া উৎপাদনের অন্য কোনো উপকরণের মালিকানা থাকে না। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা শিল্পপতির কাছে শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হয় এবং ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়।
অতএব, 'ক' এবং 'খ'-এর মধ্যে যে বিপুল আর্থ-সামাজিক ব্যবধান ও অসমতা সৃষ্টি হয়েছে, তার মূল কারণ উৎপাদনের উপকরণের ওপর 'ক'-এর একচ্ছত্র মালিকানা এবং 'খ'-এর মালিকানাহীনতা। তাই বলা যায়, তাদের মধ্যকার সামাজিক অসমতা মূলত উৎপাদনের উপকরণের মালিকানাভিত্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও