ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রফেসর ড. নাছির উদ্দীন স্যার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বললেন, ইসলামের মূল উৎস হলো 'আল-কুরআন'। এ গ্রন্থের জ্ঞান অর্জন করে বাস্তবজীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারলে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি পাওয়া যায়।' তিনি আরও বলেন, “রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে, আল্লাহ তার প্রয়োজনে এগিয়ে আসেন।”
- ক)(1)
‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“সাওম পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ । ” ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তির উপায় কী? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রফেসর ড. নাছির উদ্দীন স্যার যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তার সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ইসলাম' শব্দের অর্থ আনুগত্য করা, আত্মসমর্পণ করা এবং শান্তির পথে চলা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সাওম পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি হলো তার ইফতারের সময়, অপরটি হলো তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। সারাদিন ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করার পর হালাল খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে সাওম পালনকারী প্রথম আনন্দটি উপভোগ করে। আর দ্বিতীয় আনন্দটি হলো কিয়ামতের দিন সাওমের অনন্য প্রতিদান হিসেবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দীদার (দর্শন) লাভের মাধ্যমে প্রাপ্ত পরম আনন্দ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তির মূল উপায় হলো পবিত্র কুরআনের জ্ঞান অর্জন করা এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ী বাস্তব জীবন পরিচালনা করা।
আল-কুরআন মানবজাতির সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। উদ্দীপকে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন যে, কুরআনের জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারলেই ইহলৌকিক শান্তি ও পারলৌকিক মুক্তি সম্ভব। কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা দূর হয় এবং ব্যক্তি সৎ, চরিত্রবান ও সুবিচারক হয়। কুরআন মানুষকে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও মানুষের প্রতি সদয় আচরণের পথ নির্দেশ করে। ফলে ব্যক্তি ইহকালে মানসিক শান্তি ও সমাজে নিরাপত্তা লাভ করে এবং পরকালে অনন্ত সুখের স্থান জান্নাত লাভ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত হাদিসটি হলো: “রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে, আল্লাহ তার প্রয়োজনে এগিয়ে আসেন।” এই হাদিসটির সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:
১. পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি: হাদিসের শিক্ষা মানুষকে একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে সমাজে হিংসা-বিদ্বেষের পরিবর্তে হৃদ্যতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়।
২. সামাজিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা: সমাজের বিপদগ্রস্ত, অভাবী কিংবা দুর্বল ব্যক্তিরা যখন অনুভব করে যে অন্যরা তাদের সহযোগিতায় প্রস্তুত, তখন সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায় এবং হতাশা দূর হয়।
৩. অসাম্য ও অপরাধ হ্রাস: বিপদাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ালে অর্থনৈতিক ও মানসিক কষ্ট হ্রাস পায়, যা ছিনতাই, চুরি বা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থেকে মানুষকে দূরে রাখে।
৪. ঐক্যের সমাজ গঠন: হাদিসের শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষ নিঃস্বার্থভাবে সামাজিক কাজ ও মানবসেবায় এগিয়ে আসে, যা একটি সুশৃঙ্খল, কল্যাণকামী ও সুষম সমাজ বিনির্মাণে মূল ভূমিকা পালন করে।সুতরাং, এই হাদিসটির শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে একটি আদর্শ ও মানবিক সমাজ গঠনে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও