‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ফেরদৌসী অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে ইউরোপের একই রাষ্ট্রের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি করার সুযোগ পায়। বৃষ্টিতে গিয়ে সে রাষ্ট্রটির রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। রাষ্ট্রটিতে আইনসভার একটি কক্ষের সদস্যগণ জনপ্রতিনিধি। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী প্রধান হলেও রানীর নামে সব কিছু পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রটিতে প্রদেশ থাকলেও স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতে পারে না। দেশটির সংবিধান অলিখিত।

  1. ক)

    স্বরাজ দল কার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    আগরতলা মামলার উদ্দেশ্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তোমার পঠিত সংবিধানে বৈশিষ্ট্য লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর বাংলাদেশের সংবিধান উদ্দীপকের রাষ্ট্রটির সংবিধানের চেয়ে উত্তম? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্তরঞ্জন দাস (সি. আর. দাস) এবং মতিলাল নেহরুর উদ্যোগে স্বরাজ দল প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পুরোধা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ শীর্ষ বাঙালি নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া এবং আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন দীর্ঘায়িত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো ব্রিটেনের (যুক্তরাজ্য) সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্রিটিশ সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. অলিখিত সংবিধান: এই সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম-নীতি ও প্রথা অলিখিত এবং তা বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত ও ঐতিহাসিক সনদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
    ২. সুপরিবর্তনশীলতা: আইনসভা বা পার্লামেন্ট সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অতি সহজে সংবিধান সংশোধন করতে পারে।
    ৩. সংসদীয় ব্যবস্থা ও নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র: রাজা বা রানী রাষ্ট্রের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হলেও মূল নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে থাকে।
    ৪. এককেন্দ্রিক শাসন: রাষ্ট্রটি প্রকৃতিগতভাবে এককেন্দ্রিক, যেখানে কেন্দ্রই সমুদয় ক্ষমতার মূল উৎস।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, সার্বিক বিচারে বাংলাদেশের সংবিধান উদ্দীপকে নির্দেশিত যুক্তরাজ্যের অলিখিত সংবিধানের চেয়ে উত্তম ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করি। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:

    ১. স্পষ্টতা ও লিখিত রূপ: বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত ও স্পষ্ট হওয়ায় শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নির্দিষ্ট থাকে, যা অলিখিত সংবিধানে বিভ্রান্তি ও ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করে।
    ২. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলো সংবিধিবদ্ধ ও আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য করা হয়েছে, যা অলিখিত সংবিধানে প্রথা বা সাধারণ আইনের ওপর নির্ভরশীল।
    ৩. দুষ্পরিবর্তনশীল প্রকৃতি: সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন হয়, ফলে যেকোনো রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করতে পারে না; পক্ষান্তরে অলিখিত বা সুপরিবর্তনশীল সংবিধানে সহজে স্বেচ্ছাচারী পরিবর্তন সম্ভব।
    ৪. সাংবিধানিক প্রাধান্য: বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন (অনুচ্ছেদ ৭), যেখানে যুক্তরাজ্যে পার্লামেন্টের প্রাধান্য বিদ্যমান।

    অতএব, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকারের স্থায়ী সংরক্ষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশের লিখিত সংবিধান উদ্দীপকের রাষ্ট্রের সংবিধান অপেক্ষা অধিক কার্যকর ও উত্তম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন