পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র। হাজার মাইল ব্যবধানের দুটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। পশ্চিমাঞ্চলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পূর্বাঞ্চলের দুই বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের শাসক দলের বিপরীতে কয়েকটি দলের সমন্বয়ে একটি জোট গঠিত হয়। নির্বাচনী জোটটি ২১ দফা কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হয় এবং ব্যাপকভাবে জয়লাভ করে।
- ক)(1)
৭০ সালের নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে?
- খ)(2)
লাহোর প্রস্তাব বলতে কী বোঝোয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিত পূর্ণ নির্বাচনের সাথে তোমার পঠিত যে নির্বাচনের মিল রয়েছে? তার ফলাফল লেখ।
- ঘ)(4)
উক্ত নির্বাচনের ফলাফল পাকিস্তানের ভাঙ্গন ত্বরান্বিত করে-তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেন, তা 'লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানানো হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের মিল রয়েছে। নিম্নে এর ফলাফল আলোচনা করা হলো:
১৯৫৪ সালের ৮ থেকে ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ২৩৭টি। যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন (স্বতন্ত্র থেকে পরে যোগ দেওয়াসহ মোট ২২৮টি আসন) লাভ করে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। অপরদিকে, ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পায়। অমুসলিম ৭২টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২৪টি, তফসিলি ফেডারেশন ২৭টি ও অন্যান্যরা বাকি আসন পায়। এ ফলাফলের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম লীগের দীর্ঘদিনের কর্তৃত্বের অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জয়যাত্রা শুরু হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উক্ত নির্বাচনের ফলাফল পাকিস্তানের ভাঙন ত্বরান্বিত করে"—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের জনগণের চাওয়া-পাওয়া ও রাজনৈতিক চেতনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার অন্যতম প্রধান দাবি ছিল পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগণ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষেই তাদের ম্যান্ডেট দেয়।
কিন্তু নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক জনরায়কে মেনে নিতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ব্যর্থ হয়। একে একে নানা ষড়যন্ত্র করে তারা মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা অন্যায়ভাবে বাতিল করে এবং গভর্নর শাসন জারি করে। শাসকগোষ্ঠীর এই চরম অগণতান্ত্রিক আচরণ বাঙালিদের পাকিস্তানের প্রতি মোহমুক্ত করে এবং এটা প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে বাঙালিদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
এই নির্বাচন ও পরবর্তী ষড়যন্ত্রের ফলে বাঙালির মধ্যে পৃথক আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের চেতনা দৃঢ় হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। সুতরাং, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলই পাকিস্তানের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও