ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জহিরুল ইসলাম সাহেব একটি স্বনামধন্য কোম্পানির মালিক। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে কোম্পানির মালিকানা নিয়ে তার পুত্রদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।এক ভাই অন্য ভাইয়ের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে পিতার মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। পরবর্তীকালে ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয়। পরবর্তীতে বিজয়ী ভ্রাতা কোম্পানিটিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

  1. ক)

    সর্বশেষ মুঘল সম্রাটের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'ময়ূর সিংহাসন' কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব মুঘল আমলের কোন সম্রাটের রাজত্বকালের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ভ্রাতৃদ্বশ্বে সম্রাটের বিজয়ী পুত্রের সফলতা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সর্বশেষ মুঘল সম্রাটের নাম দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ (বাহাদুর শাহ জাফর)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ময়ূর সিংহাসন' হলো মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে নির্মিত একটি বিশ্ববিখ্যাত রত্নখচিত রাজকীয় সিংহাসন। প্রধান শিল্পী বেবাদল খাঁর তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ সাত বছর ধরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, হীরা, চুনি, পান্না ও কোহিনূর হীরার সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়। সিংহাসনটির শীর্ষে পেছনের দিকে দুটি পেখম মেলা ময়ূরের প্রতিকৃতি ছিল বলে এর নাম রাখা হয় 'ময়ূর সিংহাসন'।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালের শেষভাগে তাঁর পুত্রদের মধ্যে সংঘটিত উত্তরাধিকার যুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের মালিক জহিরুল ইসলাম সাহেব শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে মালিকানা নিয়ে তাঁর পুত্রদের মধ্যে তীব্র ঈর্ষা ও রক্তক্ষয়ী ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব শুরু হয়। মুঘল ইতিহাসেও ঠিক অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল। ১৬৫৭ সালে সম্রাট শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর চার পুত্র—দারা শিকোহ, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব এবং মুরাদের মধ্যে সিংহাসনের অধিকার নিয়ে তীব্র গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ভাইয়েরা পরস্পরের প্রতি বৈরী হয়ে ওঠেন এবং সিংহাসন দখলের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেন। অতএব, উদ্দীপকের ঘটনাটি সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যকার উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে বিজয়ী পুত্র ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের তৃতীয় পুত্র আওরঙ্গজেব (আলমগীর), যাঁর সফলতা উদ্দীপকের বিজয়ী ভ্রাতার সাফল্যের মতোই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে যেমন দেখা যায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিজয়ী ভাই প্রতিষ্ঠানটিকে সফলতার সাথে পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থায় পরিণত করেন, তেমনি ঐতিহাসিক পটভূমিতে শাহজাহানের অসুস্থতার সুযোগে শুরু হওয়া ভ্রাতৃযুদ্ধে আওরঙ্গজেব তাঁর অসাধারণ রণকৌশল, দূরদর্শিতা ও দৃঢ়তার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইদের (দারা, সুজা ও মুরাদ) পরাজিত ও প্রতিহত করে ১৬৫৮ সালে দিল্লির মসনদে বসেন।

    সিংহাসনে আরোহণের পর আওরঙ্গজেব মুঘল সাম্রাজ্যকে তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভৌগোলিক সীমানায় সম্প্রসারিত করেন। তিনি সুদীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী (১৬৫৮-১৭০৭ খ্রি.) শাসন করেন এবং দাক্ষিণাত্যের বিজাপুর, গোলকুণ্ডাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তাঁর আমলে মুঘল সাম্রাজ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অপরাজেয় শক্তির রূপ পরিগ্রহ করে।

    সুতরাং, ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে বিজয়ী হয়ে আওরঙ্গজেব যেভাবে সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটিয়ে একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তা উদ্দীপকের বিজয়ী ভাইয়ের ব্যবসায়িক সাফল্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন