ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহ.) বলেছেন, “কুরআন বোঝা হাদিস বোঝার ওপর নির্ভরশীল। আর হাদিস অনুধাবন করলে মানুষের ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োজনীয় আইনকানুন তৈরির শাস্ত্র সম্পর্কে জানা যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করলেন-“আল্লাহ যার মঙ্গল (কল্যাণ) করতে চান, তাকে দ্বীনের সূক্ষ্ম জ্ঞানদান করেন।”
- ক)(1)
ফিকহশাস্ত্রের জনক কে?
- খ)(2)
“আল-কুরআন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান ।”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহ.)-এর বক্তব্যে ইসলামের যে বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা চিহ্নিতপূর্বক এটি উৎপত্তির কারণ বিশ্লেষণ কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটির যথার্থতা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফিকহশাস্ত্রের জনক হলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আল-কুরআন মানুষের সামগ্রিক জীবনের যাবতীয় পথনির্দেশ সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এটি কেবল আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় বিষয়াদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম..." (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)। তাই আল-কুরআন একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহ.)-এর বক্তব্যে ইসলামের 'ফিকহ শাস্ত্র' বা ইসলামী আইনশাস্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ফিকহ শাস্ত্রের উৎপত্তির কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১. মুসলিম সাম্রাজ্যের বিস্তার: মহানবী (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের পর ইসলাম আরব ভূখণ্ডের বাইরে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির বহু নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়, যার প্রত্যক্ষ সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
২. কুরআন ও হাদিসের বিধিবিধানের বাস্তবায়ন: কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নীতিমালার আলোকে মানবজীবনের নিত্যনতুন সমস্যার সমাধান বের করতে গবেষণা বা ইজতিহাদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
৩. ইজতিহাদ ও কিয়াসের প্রয়োগ: সরাসরি সমাধান না পাওয়া বিষয়গুলোতে কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের সমন্বয়ে সুবিন্যস্ত আইন কাঠামো তৈরির তাগিদ থেকেই ফিকহ শাস্ত্রের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটি হলো: "আল্লাহ যার মঙ্গল (কল্যাণ) করতে চান, তাকে দ্বীনের সূক্ষ্ম জ্ঞান (ফিকহ) দান করেন" (সহিহ বুখারি)। হাদিসটির তাৎপর্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে অত্যন্ত গভীর ও যথার্থ।
ইসলামে জ্ঞানের মর্যাদা অপরিসীম, বিশেষ করে দ্বীনের মৌলিক ও সূক্ষ্ম জ্ঞান (ফিকহ)। ফিকহ শব্দের অর্থ গভীর উপলব্ধি বা প্রজ্ঞা। কেবল বাহ্যিক আমল জানাই যথেষ্ট নয়, বরং আল্লাহর বিধিবিধানের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও প্রজ্ঞা বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে দেখা যায়, ফিকহের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে একজন মুমিন হালাল ও হারামের সুস্পষ্ট পার্থক্য বুঝতে পারে এবং যুগোপযোগী বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান শরীয়াহর আলোকে নিরূপণ করতে সক্ষম হয়। যে ব্যক্তি দ্বীনের এই গভীর প্রজ্ঞা লাভ করে, সে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পায় এবং সমাজে সঠিক হেদায়াত পৌঁছে দিতে পারে। তাই আল্লাহ তাআলা যাকে বিশেষ কল্যাণ ও অনুগ্রহ দান করতে চান, তাকেই দ্বীনের এই গভীর অন্তর্দৃষ্টি দান করেন। সুতরাং উদ্দীপকের হাদিসটির বক্তব্য সম্পূর্ণ যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও