ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মুজিবনগর সরকার কবে শপথ গ্রহণ করে?
- খ)(2)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা কী ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কাঠামোটি কোন সরকারের? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে উক্ত সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর কূটনৈতিক এবং সামরিক সমর্থন দিয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান ও তার মিত্রদের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' প্রয়োগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া তারা গণহত্যা বন্ধের জন্য পাকিস্তানকে আহ্বান জানায় এবং ভারত ও মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সংহত করতে ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কাঠামোটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কাঠামো।
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত ব্যক্তিবর্গ হলেন মুজিবনগর সরকারের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ:
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান – রাষ্ট্রপতি
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম – উপ-রাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)
৩. তাজউদ্দীন আহমদ – প্রধানমন্ত্রী
৪. ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী – অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী
৫. এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান – স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী
৬. খন্দকার মোশতাক আহমদ – পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীসুতরাং, উদ্দীপকের নেতৃত্বের ছকটি নিশ্চিতভাবেই মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রথম বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ মুজিবনগর সরকারের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অনন্য, অপরিহার্য এবং সর্বাত্মক। এই সরকারের নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সুসংগঠিত রূপ লাভ করে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
প্রথমত, মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ায় বিশ্ববাসীর কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এটি কেবল কোনো বিশৃঙ্খলা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয়, বরং একটি বৈধ ও নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে জনগণের মুক্তি সংগ্রাম।
দ্বিতীয়ত, সামরিক ক্ষেত্রে এ সরকার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে এবং জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করে। নিয়মিত বাহিনী ও গেরিলা বাহিনী (মুক্তিযোদ্ধা) গঠন, সমন্বয় এবং অস্ত্রশস্ত্রের সংস্থান এ সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়।
তৃতীয়ত, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকার বহির্বিশ্বে বিশেষ দূত প্রেরণ করে পাকিস্তানের বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গঠন এবং বাংলাদেশের স্বীকৃতির জন্য সক্রিয় প্রচার চালায়। শরণার্থী ব্যবস্থাপনা, জাতিসংঘে প্রতিনিধি দল পাঠানো এবং ভারতের সাথে সুসমন্বয় রক্ষা করা এ সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, অভ্যন্তরীণ প্রশাসন পরিচালনা থেকে শুরু করে রণাঙ্গনের সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে মুজিবনগর সরকারের সুপরিকল্পিত নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও