ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
রাশিদা বেগম 'বাংলাদেশ নারী অধিকার' নামক সংগঠনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে এমন একটি সময় ছিল যখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। নারীদের কোনো অধিকার ছিল না। একজন পুরুষ একই সাথে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারত। তাদের কোনো কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিল না। তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকত। এসব সংঘর্ষ 'ভারতীয়দের দিন' নামে পরিচিত। তারা 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতিতে বিশ্বাসী ছিল।
- ক)(1)
'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাশিদা বেগমের বক্তব্যে কোন সমাজের নারীর অবস্থা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত যুগের রাজনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ সুখী বা সৌভাগ্যবান (বা ডানদিক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কারণ মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য উট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রধান বাহন। উট টানা কয়েকদিন পানি ও খাবার ছাড়া টিকে থাকতে পারে এবং এর চওড়া ও নরম পায়ের পাতা মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে সহজে চলার উপযোগী। ফলে মরুভূমিতে চলাচলের ক্ষেত্রে উটের অতুলনীয় ভূমিকার জন্য রূপক অর্থে একে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাশিদা বেগমের বক্তব্যে প্রাক-ইসলামি বা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের আরব সমাজের নারীদের করুণ ও অবহেলিত অবস্থা ফুটে উঠেছে (যদিও উদ্দীপকে রূপকভাবে 'ভারতীয় উপমহাদেশ' উল্লেখ করে আরবের জাহেলি যুগের চিত্র আঁকা হয়েছে)।
ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে নারীদের কোনো সামাজিক বা আইনগত অধিকার ছিল না। তাদেরকে ভোগ্যপণ্য ও দাসী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সমাজে কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়াকে অত্যন্ত অপমানজনক ও লজ্জাজনক মনে করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে নবজাতক কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো। বহুবিবাহ অবাধ ছিল এবং পুরুষরা যথেচ্ছভাবে স্ত্রীদের পরিত্যাগ করতে পারত।
উদ্দীপকে বর্ণিত কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া, নারীর অধিকারহীনতা এবং পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত বহুবিবাহের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা হুবহু প্রাক-ইসলামি জাহেলি যুগের নারী সমাজের অবক্ষয় ও চরম দুর্দশাকেই তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাক-ইসলামি বা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল চরম বিশৃঙ্খল, অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যপূর্ণ।
ঐ যুগে আরবে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার, সুসংগঠিত আইনকানুন বা কেন্দ্রীয় বিচারব্যবস্থা ছিল না। আরবরা বিভিন্ন স্বাধীন ও পরস্পরবিরোধী গোত্রে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি গোত্রের নিজস্ব প্রধান বা 'শায়খ' থাকত, যার আনুগত্য নির্ভর করত গোত্রীয় শক্তির ওপর। গোত্রগুলোর মধ্যে 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতি প্রচলিত ছিল, যেখানে শক্তিমানরা দুর্বলদের ওপর শোষণ চালাত।
গোত্রগুলোর মধ্যে সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বেধে যেত, যা বছরের পর বছর এবং বংশপরম্পরায় চলতে থাকত। যেমন—বসুসের যুদ্ধ, দাহিস ও গাবরার যুদ্ধ এবং ফিজার যুদ্ধ। এসব যুদ্ধ ও সংঘর্ষ 'আইয়ামুল আরব' বা 'আরবদের দিন' নামে পরিচিত ছিল। আইনের শাসন না থাকায় হত্যা, লুণ্ঠন ও প্রতিশোধ গ্রহণ ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।
সুতরাং, জাহেলি যুগের আরবের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ আইনহীন, যুদ্ধবিগ্রহে পূর্ণ এবং হানাহানিতে নিমজ্জিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও